নেত্রকোনায় নিখোঁজের ৭ দিন পর নারীর মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার স্বামী

মো. নাজমুল ইসলাম, নেত্রকোণা প্রতিনিধি:

দেশজুড়ে

নেত্রকোনার সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর নাজু আক্তার (৩৪) নামের এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন ওই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

2026-09-27T17:24:29+06:00
2026-09-27T17:44:00+06:00
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
দেশজুড়ে
নেত্রকোনায় নিখোঁজের ৭ দিন পর নারীর মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার স্বামী
মো. নাজমুল ইসলাম, নেত্রকোণা প্রতিনিধি:
প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৪ পিএম  আপডেট: ২৭.০৯.২০২৬ ৫:৪৪ পিএম
সাবেক স্বামী নুরুল আমীন
নেত্রকোনার সদর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর নাজু আক্তার (৩৪) নামের এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন ওই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের কাছে ঢুকিয়ালী নদের পাড় থেকে নাজু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নাজু আক্তার নিখোঁজ ছিলেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাই শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত শুরু করে এবং নুরুল আমীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নুরুল আমীন নাজু আক্তারকে হত্যার কথা জানান। তাঁর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগুয়া গ্রামের কাছে ঢুকিয়ালী নদের পাড়ে মাটির নিচে মরদেহ পুঁতে রাখার স্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে নাজু আক্তারকে নেত্রকোনা শহরের তেরিবাজার মোড় থেকে সঙ্গে নেন নুরুল আমীন। প্রথমে তাঁরা রিকশায় রাজুরবাজার এলাকায় যান। সেখান থেকে ভাড়ায় মোটরসাইকেলে মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপোড়া সেতু-সংলগ্ন এলাকায় যান।

পুলিশের দাবি, রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাকা দেয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল আমীন নাজু আক্তারের বুকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁকে পাশের একটি শ্মশানঘাটে নিয়ে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন নুরুল আমীন।

পুলিশ আরও জানায়, নাজু আক্তারের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নুরুল আমীন তাঁর মরদেহ কাঁধে করে বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মরদেহটি মাটিচাপা দেয়া হয় বলে পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছেন।

নাজু আক্তার সদর উপজেলার কাটলী এলাকার মো. ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। নুরুল আমীনের বাড়ি একই উপজেলার নগুয়া-কুশলগাঁও এলাকায়। প্রায় ১৪ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার বিচ্ছেদ হলেও পরে তাঁরা আবার একসঙ্গে বসবাস করেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে তাঁদের সর্বশেষ বিচ্ছেদ হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, নাজু আক্তারের করা ভরণপোষণ ও ধর্ষণের অভিযোগসংক্রান্ত একটি মামলা তদন্তাধীন ছিল। ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন জানিয়েছেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, নুরুল আমীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।



জ/রা




  বিষয়:   মো. নাজমুল ইসলাম  নেত্রকোনা প্রতিনিধি: 



Advertisement
Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]