কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়ার চার দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারহানা ইয়াসমিন তমা (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতালের নথিতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে।
গতকাল শনিবার ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তমার মৃত্যু হয়। পরে দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে তার ময়নাতদন্ত করা হয়। তমা ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামের তোজাম্মেল হকের মেয়ে।
তমার ভাই মো. তামিমের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাসেল নামে এক যুবক তমাকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যান। রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বকশীপাড়া গ্রামে তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। এতে তার মাথায় আঘাত লাগে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তামিমের দাবি, রাসেল তমার সাবেক স্বামী বখতার আলীর বন্ধু। ঘটনার দিন বিকেলে রাসেল তমাকে মোট নয়বার ফোন করেছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। তামিম আরও দাবি করেন, অন্তত চারজন ব্যক্তি তমাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছেন। তবে বিষয়টি এখনো পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালে ধর্ষণের পরীক্ষা করার অনুরোধ করা হলেও ওয়ার্ডে এ পরীক্ষা সম্ভব নয় জানিয়ে তমাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে তামিম জানান। এর আগেই তার মৃত্যু হয়। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন জানিয়ে খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেছেন।
ভেড়ামারা থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশ এখনো তা নিশ্চিত হতে পারেনি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
ওসি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তমার সাবেক স্বামী বখতার আলীকে আটক করা হয়েছে। তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগে মামলা করা হবে, সে অনুযায়ী মামলা রেকর্ড করা হবে।
জ/উ