দক্ষিণ আফ্রিকায় তীব্র আতঙ্ক, দুই মাসে ৯ নারীর মরদেহ উদ্ধার

জবাবদিহি ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে গত দুই মাসে ৯ নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না কিংবা এর পেছনে কোনো ধারাবাহিক হত্যাকারী জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

2026-09-17T23:22:57+06:00
2026-09-17T23:22:57+06:00
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আন্তর্জাতিক
দক্ষিণ আফ্রিকায় তীব্র আতঙ্ক, দুই মাসে ৯ নারীর মরদেহ উদ্ধার
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ পিএম 
দক্ষিণ আফ্রিকায় তীব্র আতঙ্ক, দুই মাসে ৯ নারীর মরদেহ উদ্ধার
দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলে গত দুই মাসে ৯ নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না কিংবা এর পেছনে কোনো ধারাবাহিক হত্যাকারী জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ডন পার্ক এলাকার একটি সড়কের পাশে চাদরে মোড়ানো অবস্থায় সর্বশেষ মরদেহটি পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীকে আংশিক পোশাকহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

জোহানেসবার্গের বৃহত্তর নগরাঞ্চল একুরহুলেনিতে গত জুলাই থেকে আট নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনকে আংশিক পোশাকহীন এবং শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ পাওয়া যায়। সর্বশেষ মরদেহ পাওয়া নারীর বয়স ৩০-এর কাছাকাছি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর শরীরেও আঘাত ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে।

নিহতদের মধ্যে ৩৮ বছর বয়সী এলিজাবেথ সোনসো মোসেলাকগোমোও রয়েছেন। গত সপ্তাহে বিকেলে দৌড়াতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। তিন দিন পর কেম্পটন পার্কের একটি হোটেলের পেছন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া জুলাই থেকে নিখোঁজ থাকা ইতুমেলেং কেকানা এবং ৩৮ বছর বয়সী দিনেও এভেলিন মোটাপানের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার কোয়াথেমা এলাকায় সড়কের পাশে মোটাপানের মরদেহ পাওয়া যায়।

৯টি মরদেহের মধ্যে প্রথমটি ১৫ জুলাই কেম্পটন পার্কে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় দুই দিন পর একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখনো হেফাজতে রয়েছেন। তবে অন্য মৃত্যুর ঘটনাগুলোর সঙ্গে ওই ব্যক্তির কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে পুলিশ এখনো জানায়নি।

এরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে কেম্পটন পার্ক, ওলিফ্যান্টসফন্টেইন, ক্লেইভিল ও কোয়াথেমাসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাগুলো তদন্তে গোয়েন্দা কর্মকর্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষক, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করেছে পুলিশ। ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করতে সব চেষ্টাই করা হবে। এসব ঘটনা মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গাউতেং প্রাদেশিক সরকার প্রধান পানিয়াজা লেসুফি গতকাল বলেন, ‘আবেগতাড়িত না হয়ে এগোতে হবে, এবার কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তথ্য দিয়ে তদন্তে সহায়তা করতে ৪ লাখ দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড, যা প্রায় ২৪ হাজার মার্কিন ডলার, পুরস্কার ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারের সদস্যদের অবশিষ্ট মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে উচ্চমাত্রার সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। একুরহুলেনিতে পরপর নারীদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই পর্যায়ে ঘটনাগুলোকে কোনো ধারাবাহিক হত্যাকারীর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে না। তবে একাধিক ব্যক্তি এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে কি না, সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি


জ/রা





  বিষয়:   দক্ষিণ আফ্রিকা  নারী  মরদেহ 



Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]