ডিজিটাল ঋণের ক্যাশ আউট চার্জ দিতে হবে না গ্রাহকদের

জবাবদিহি ডেস্ক

অর্থনীতি

প্রয়োজনে মানুষ একে অন্যের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন। আগে ঋণ দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে নগদ অর্থই ছিল প্রধান মাধ্যম। তবে প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে ব্যাংক হিসাব কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ লেনদেনও এখন বেশ প্রচলিত।

2026-09-17T22:00:25+06:00
2026-09-17T22:00:25+06:00
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
অর্থনীতি
ডিজিটাল ঋণের ক্যাশ আউট চার্জ দিতে হবে না গ্রাহকদের
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ পিএম 
ডিজিটাল ঋণের ক্যাশ আউট চার্জ দিতে হবে না গ্রাহকদের
প্রয়োজনে মানুষ একে অন্যের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন। আগে ঋণ দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে নগদ অর্থই ছিল প্রধান মাধ্যম। তবে প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে ব্যাংক হিসাব কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ লেনদেনও এখন বেশ প্রচলিত।

কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা পাঠানো ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত চার্জ থাকায় ঋণের পুরো অর্থ নিয়ে একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এই খরচ বহন করবেন কে?

ধরা যাক, কেউ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা ঋণ পাঠালেন। ক্যাশ আউট করার সময় নির্ধারিত চার্জ কেটে নেওয়ায় ঋণগ্রহীতা হাতে পাবেন প্রায় ৪ হাজার ৯০০ টাকা বা তার কিছু বেশি। আবার ঋণ পরিশোধের সময় ঋণগ্রহীতা যদি মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঠিক ৫ হাজার টাকা পাঠান, সেক্ষেত্রেও ঋণদাতা টাকা উত্তোলনের সময় চার্জের কারণে পুরো ৫ হাজার টাকা হাতে পাবেন না। ফলে প্রশ্ন দেখা দেয়, করজে হাসানার ক্ষেত্রে এই ক্যাশ আউট চার্জের দায় কার?

ইসলামে উত্তম ঋণ বা করজে হাসানাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এর প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে। আল্লাহ তার জন্য একে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন। আর আল্লাহই (জীবিকা) কমান বা বাড়ান। আর তোমাদের তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৪৫)

সুরা মুজ্জাম্মিলের ২০ নম্বর আয়াতেও নামাজ ও জাকাত আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহকে করজে হাসানা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

করজে হাসানা মূলত দরিদ্র, অসহায় কিংবা প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার একটি মানবিক ব্যবস্থা। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে কোনো সুদ থাকে না এবং ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় না। ইসলামে সুদ নিষিদ্ধ হওয়ায় করজে হাসানা পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসার-এর একটি ফতোয়ায় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

ফতোয়া অনুযায়ী, কেউ যদি করজে হাসানা চান এবং ঋণদাতাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলেন, তাহলে ঋণদাতা যে পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন, ঋণগ্রহীতাকে ঠিক সেই পরিমাণ অর্থই ফেরত দিতে হবে। ঋণগ্রহীতা টাকা গ্রহণের পর ক্যাশ আউট করতে গিয়ে যে চার্জ দেবেন, সেই খরচ তার নিজেরই বহন করতে হবে।

অন্যদিকে, ঋণ ফেরত দেওয়ার সময় মূল বিষয় হলো ঋণদাতা যেন তার পুরো পাওনা বুঝে পান। তাই ঋণগ্রহীতা নিজ উদ্যোগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণের টাকা ফেরত পাঠাতে চাইলে, অথচ ঋণদাতা ওই মাধ্যমে টাকা নিতে রাজি না থাকেন, তাহলে টাকা পাঠানোর সময় যে ক্যাশ আউট বা সংশ্লিষ্ট খরচ হবে, তা প্রেরণকারী অর্থাৎ ঋণগ্রহীতাকেই বহন করতে হবে।

তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে যদি ঋণদাতা নিজেই ঋণগ্রহীতাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা ফেরত পাঠাতে বলেন। সে ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা ঋণ নেওয়ার সময় যত টাকা পেয়েছিলেন, ঠিক তত টাকা ফেরত পাঠালেই দায়িত্ব শেষ হবে। অতিরিক্ত ক্যাশ আউট চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।


জ/রা




  বিষয়:   মোবাইল ব্যাংকিং  ঋণ 



Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]