প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন বলেছেন, আমরা দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। তিনি বুধবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সাথে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিগণ, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য পুলিশ ইউনিটের এসপি ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এ নির্বাচনী পরিবেশ আপনারাই তৈরি করেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ধারা দেশে চালু হয়েছে তা অব্যাহত রাখতে আপনাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের যেমন সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব তেমনি কমিশনকে সহায়তা করা পুলিশেরও আইনি দায়িত্ব।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের যে আস্থা নষ্ট হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা অধিকাংশই তা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন যাতে একই মাপকাঠিতে সম্পন্ন হয় পুলিশকে সেই চেষ্টা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। বাংলাদেশ পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যাতথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবেলায় আমাদেরকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
পুলিশ প্রধান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা এবং পুলিশের সকল পর্যায়ের সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সমন্বয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদে নিশ্চিত করতে সক্ষম হবো।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত রোডম্যাপ এবং একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ১১৪টি ভেন্যুতে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু হবে। বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের প্রায় ৩৯ হাজার পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনের সময় পুলিশকে কোন বেআইনি নির্দেশ দেয়া হবে না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করার নির্বাচন কমিশনের এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিটমেন্ট আছে। জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, যত সুন্দরভাবে করেছি একইভাবে অন্তত একই মানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও করতে চাই।
জ/বা