সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সদস্য (মহিলা আসন-৩১) সানজিদা ইয়াসমিনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী বলেন, জিপিএস প্রযুক্তি চালু হলে গণপরিবহনের অবস্থান ও গতিবেগ সহজেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।
তিনি জানান, কোনো গণপরিবহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে কিংবা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের আরেকটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা কমানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদার মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সময় দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৪৬৩ জন গাড়িচালককে এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে চালকদের ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, মাদক সেবন করে মোটরযান চালানোর ক্ষতিকর দিক, নিরাপদ সড়কের গুরুত্ব এবং দূষণ রোধে করণীয় বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে।
শেখ রবিউল আলম আরও জানান, ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’-এর আওতায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন চালককে মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং ২০ হাজার ভারী যানবাহনের চালককে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এর মাধ্যমে দক্ষ ও নিরাপদ চালক তৈরি এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
জ/উ