উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-09-09T18:35:42+06:00
2026-09-09T18:35:42+06:00
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ-ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলনের অভাব, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহির ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বেড়ে যায়।

আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত কোনো একক কারণে ঘটে না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে।

তিনি জানান, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প অনুমোদনের পর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনসংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করতে সংশোধনের কার্যক্রম চলছে। চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব প্রকল্প পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির আওতায় গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপির ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদের কার্যক্রম চলছে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিমূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]