ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে

দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিলেন বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূইয়া। তবে কমিটি গঠনের প্রায় সাড়ে তিন মাস পরও সেই তদন্তের কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি।

2026-09-09T14:50:29+06:00
2026-09-09T14:52:12+06:00
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
দেশজুড়ে
বাঞ্ছারামপুর
ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
সাড়ে ৩ মাসেও নেই তদন্ত প্রতিবেদন
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫০ পিএম  আপডেট: ০৯.০৯.২০২৬ ২:৫২ পিএম
ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছিলেন বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূইয়া। তবে কমিটি গঠনের প্রায় সাড়ে তিন মাস পরও সেই তদন্তের কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি।

বিস্ময়কর হলো, তদন্তের অগ্রগতি কিংবা প্রতিবেদন জমা হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানিয়েছেন খোদ পৌর প্রশাসক।

এমন বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি তদন্ত কমিটি গঠন করে এতদিন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ তার কোনো তদারকিই করেনি?

ভিজিএফের চাল কম দেয়ার অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবেদন না আসায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। অভিযোগের সময় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক মো. রবিউল হাসান ভূইয়া বলেন, “তদন্ত কমিটি কোনো রিপোর্ট দিয়েছে কি না, এটা খেয়াল করি নাই। কথা বলে জানাতে হবে।”

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ওইরকম কিছু লিখে দেয়া হয়নি। দিয়েছি কি না, জানাতে হবে আপনাকে।”

একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রায় সাড়ে তিন মাসেও জমা পড়ল কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসকেরই জানা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কৃষ্ণ দয়াল রয় বলেন, “যখন তদন্ত কমিটি গঠন করে তখন আমি নতুন জয়েন করেছি। এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এসিল্যান্ড স্যার এই বিষয়ে থেমে থাকতে বলেছিলেন। তাই তদন্তের ব্যাপারে অগ্রগতি নেই।”

তিনি আরও বলেন, “নিউজ হওয়ার পরে স্যার একটা কমিটি করা হয়েছিল এবং নোট দিয়ে রেখেছিল। কিন্তু চিঠিগুলো অফিসিয়ালি ফরমালি বা তেমন কিছু না। ওই ভিত্তিতে আমরা কাজ আগাই রেখেছিলাম। আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। চিঠি দেখাইছে, আমাদের স্বাক্ষর নিয়েছে। কিন্তু অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী দেখানো হয়নি। 

অন্যদিকে তদন্ত কমিটির সদস্য ও পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার মতামত আমি তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কাছে সাবমিট করে দিয়েছি। আপনি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।”

অর্থাৎ একই তদন্ত কমিটি নিয়ে তিন ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে। কমিটির একজন সদস্য বলছেন, তিনি মতামত জমা দিয়েছেন। আহ্বায়ক বলছেন, তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। আর কমিটি গঠনকারী পৌর প্রশাসক বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে কি না, সেটিই তাঁর খেয়াল নেই।

প্রশ্ন উঠছে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েও: ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার জন্য। অথচ সাড়ে তিন মাস পরও তদন্তের অবস্থা নিয়ে যদি সংশ্লিষ্ট প্রশাসকেরই স্পষ্ট ধারণা না থাকে, তাহলে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

আরও অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নির্দেশনায় ২০ মে’র মধ্যে ভিজিএফের চাল উত্তোলন ও বিতরণ শেষ করার কথা থাকলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ২৪ মে চাল বিতরণ করে। ওই বিতরণ কার্যক্রমেই উপকারভোগীদের ১০ কেজির পরিবর্তে ৮ থেকে ৯ কেজি চাল দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিতরণের জন্য আনা বস্তায় ৩০ কেজির পরিবর্তে ২৫, ২৬ ও ২৮ কেজি চাল পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

প্রশ্ন শুধু চাল কম দেয়ার নয়, সরকারি নির্দেশনার সময়সীমা অমান্য করে বস্তায় চালের ঘাটতি, উপকারভোগীদের কম চাল দেয়া এবং এরপর তদন্ত প্রতিবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা এই পুরো প্রক্রিয়ার দায় আসলে কার?

দরিদ্র অসহায় মানুষের ঈদের খাদ্য সহায়তার চাল নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এভাবেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, তদন্ত কি সত্যিই হচ্ছে, নাকি তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ করা হয়েছে?



জ,রা 





  বিষয়:   ভিজিএফ  চাল  অনিয়ম  অভিযোগ 



Advertisement
Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]