১৫০ কোটির বেড়িবাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০০ ঘরবাড়ি

জবাবদিহি ডেস্ক

দেশজুড়ে

ঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের সীমান্ত সড়কের কয়েকটি জায়গার সিসি ব্লক সরে গিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় দেড়শো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বেড়িবাঁধ ও সড়ক ভাঙনের কবলে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে উপকূলবাসীর। যেকোনো মুহূর্তে অন্তত ৪০০ বসতবাড়ি সাগরে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

2026-09-09T10:39:18+06:00
2026-09-09T10:39:18+06:00
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
দেশজুড়ে
১৫০ কোটির বেড়িবাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০০ ঘরবাড়ি
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম 
১৫০ কোটির বেড়িবাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০০ ঘরবাড়ি
ঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের সীমান্ত সড়কের কয়েকটি জায়গার সিসি ব্লক সরে গিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় দেড়শো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বেড়িবাঁধ ও সড়ক ভাঙনের কবলে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে উপকূলবাসীর। যেকোনো মুহূর্তে অন্তত ৪০০ বসতবাড়ি সাগরে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা জানান, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দ্বীপটির পশ্চিমপাড়া অংশের প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যায়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে ওই এক কিলোমিটারসহ মোট দুই কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী সুরক্ষা দিতে পারেনি। এরপর একাধিক দফায় সংস্কার করলেও শাহপরীর দ্বীপের নয়াপাড়া, কাটাবুনিয়া ও হারিয়াখালী এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০২২ সালে ১৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের ওপর নতুন করে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়। তবে বর্তমানে পুনরায় ভাঙনের মুখে পড়ায় শাহপরীর দ্বীপের অন্তত চারশ বসতবাড়ি বিলীনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে শাহপরীর দ্বীপের ২ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রায় ১৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যৌথ তত্ত্বাবধানে ২০১৭ সালে মূল ভাঙা বাঁধের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০২২ সালের জুন মাসে।

এর আগে সংস্কারহীন ভাঙা বাঁধ দিয়ে নিয়মিত জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপ সড়কের হারিয়াখালী থেকে উত্তরপাড়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার পাকা সড়ক মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০১৮ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই ভাঙা সড়কের ৫ দশমিক ১৫ কিলোমিটার অংশ নতুন করে নির্মাণ করে। ২০২২ সালের নভেম্বরে সড়কটি পূর্ণাঙ্গভাবে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় সীমান্ত সড়কের পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য পশ্চিম অংশে বাঁধের ঢালুতে সিসি ব্লক বসানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে ঢেউয়ের আঘাতে সিসি ব্লকের নিচের মাটি ধসে গিয়ে ব্লকগুলো সরে যাচ্ছে।

শাহপরীর দ্বীপের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কলিম উল্লাহ বলেন, ১৯৯০ সালেও শাহপরীর দ্বীপের দৈর্ঘ্য ছিল ১৪ কিলোমিটার আর প্রস্থ ৯ কিলোমিটার। লোকসংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার। সাগরে বিলীন হতে হতে এখন দ্বীপটির দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩ কিলোমিটারে ঠেকেছে। শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম ও দক্ষিণাংশে প্যারাবন সৃষ্টির সুযোগ না থাকায় বঙ্গোপসাগরের ঢেউ সরাসরি বেড়িবাঁধে আঘাত হানছে। তাতে বাঁধের পশ্চিম পাশের সিসি ব্লক সরে গিয়ে নিচের মাটির বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আবার বসতবাড়ি বিলীনের ঝুঁকিতে পড়েছে হাজারো মানুষ।

তিনি আরিও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে। লঘুচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত পড়লে জোয়ারের পানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। জোয়ার ঠেকাতে এই বাঁধের উচ্চতা আরও অন্তত চার ফুট বাড়ানো দরকার।

শাহপরীর দ্বীপের জেলে নজির আহমদ (৫৫) বলেন, বেড়িবাঁধের পাশে টিনের বাড়িতে থাকতাম। ১৯৯১ সালে তার বাড়ি ছিল সাগরের মধ্যে ৭০০ মিটার দূরে। গত তিন দশকে চারবার তাকে বসতবাড়ি সরাতে হয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে তার বাড়ির পাশে বেড়িবাঁধের সিসি ব্লক উপড়ে পড়ছে। সিসি ব্লকগুলো বিশাল আকারের হওয়ায় আবার স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।

আড়াই বছরের প্রকল্প সম্পন্ন হয়নি ৮ বছরেও, ছোট পরিসরে শেষ করার উদ্যোগ
তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে ভাঙন দেখে গেলেও সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। উচ্চ জোয়ারের লোনাপানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে লোকজনের ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি প্লাবিত করছে। তাতে খেতের ফসল ও গাছপালা মরে যাচ্ছে।

শাহপরীর দ্বীপের মাঝেরপাড়ার জেলে আহমদ আলী (৬০) বলেন, আবারও ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। আমরা গরিব মানুষ। কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। যাদের জমি আছে, তারা আগেভাগে চলে যাচ্ছেন। ত্রাণ নয়, আমরা বেড়িবাঁধ চাই।

ঘোলারচরের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, বেড়িবাঁধের বাইরে আমরা ৩৩টি পরিবার প্রায় আড়াই শতাধিক মানুষ বসবাস করছি। কোনো ধরনের বাঁধের ওপর বেড়িবাঁধ না থাকায় জীর্ণ জীবন যাপন করছি। রাখে আল্লাহ মারে কে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, বাঁধটি প্রতিবার নির্মাণ করার সময় এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। আগামীতে ভালোভাবে বাঁধ নির্মাণ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) টেকনাফের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী রিফাত ইবনে রশিদ বলেন, বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। ঢেউয়ের ধাক্কায় শাহপরীর দ্বীপের কয়েকটি জায়গায় সিসি ব্লক উপড়ে পড়ছে। পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কাজ সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।

পাউবোর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, লোকালয়ে যেন সাগরের পানি ঢুকতে না পারে, এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতের কাজ শুরু হবে। তবে স্থায়ীভাবে সংস্কার কাজ শুরু হবে নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে, সাগর শান্ত হলে। উত্তাল পরিস্থিতিতে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

জ/রা




  বিষয়:   কক্সবাজার  নদী ভাঙন  বঙ্গোপসাগর 



Advertisement
Loading...
Loading...
দেশজুড়ে - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]