ধূমপান নারী ও পুরুষ উভয়েরই সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি পরোক্ষ ধূমপানও প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক নতুন পর্যালোচনায় জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, তামাক সেবনের সঙ্গে নারীদের বন্ধ্যত্ব এবং পুরুষদের শুক্রাণু ও যৌন সক্ষমতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে।
২০০০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যারা বর্তমানে ধূমপান করেন, তাদের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি ধূমপান না করা নারীদের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ধূমপান করা নারীদের তুলনায় এই ঝুঁকি প্রায় ২৫ শতাংশ কম হতে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রেও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া গেছে। ৬০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত ৪৪টি গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ধূমপানের সঙ্গে শুক্রাণুর অস্বাভাবিকতা, যৌন সক্ষমতায় সমস্যা এবং বীর্যপাতজনিত জটিলতার সম্পর্ক রয়েছে।
শুধু স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণই নয়, ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফের মতো সহায়ক প্রজনন চিকিৎসার ফলাফলও ধূমপানের কারণে কমে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রজননক্ষম প্রতি ছয়জনের একজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যায় পড়েন।
জ/রা