২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অব্যয়িত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের হজে বিমান ভাড়াসহ সরকারি প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। এদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর মেহমান হাজিদের সেবা করাই বর্তমান সরকারের একমাত্র ব্রত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও নিবিড় মনিটরিংয়ের ফলে ২০২৬ সালের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রতিটি হজ প্যাকেজের ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। খাতভিত্তিক হিসাব শেষে যে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা উদ্বৃত্ত ছিল, তা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ইএফটির (EFT) মাধ্যমে ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে। সংসদে প্যাকেজভিত্তিক অর্থ ফেরতের তথ্যও তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ-১-এর খাবার খরচ ছাড়া মূল্য ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা। এই প্যাকেজের পূর্ণাঙ্গ ও শর্ট প্যাকেজের হাজিদের যথাক্রমে ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা ও ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা করে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিট আপগ্রেডেশনের ভিত্তিতে কোনো কোনো হাজিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্যাকেজ-২-এর হাজিদের জনপ্রতি সর্বনিম্ন ২ হাজার ৫০৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে। আর প্যাকেজ-৩-এর পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের হাজিদের জনপ্রতি ৩ হাজার ৭১৮ টাকা করে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
আগামী বছরের হজের খরচ কমানোর বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য হজকে আরও সাশ্রয়ী করতে ২০২৭ সালে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২০২৭ সালের হজের বিমান ভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে এই বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা বলেও জানান তিনি।
ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের জন্য দুটি সরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ২০২৬ সালের তুলনায় ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা কমিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজ-২-এর খরচ ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমিয়ে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা করা হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী বছরও হাজিদের জন্য আরও সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ/উ