২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে থাকবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ শাসনামলের নানা ঘটনা

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-09-08T20:17:43+06:00
2026-09-08T20:17:43+06:00
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে থাকবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ শাসনামলের নানা ঘটনা
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৭ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই-অগাস্টের গণহত্যা এবং শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনা ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি বিবেচনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং এ অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরা হবে।

এ ছাড়া নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের বিভিন্ন ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা এবং গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তকে এসব বিষয় পড়ার সুযোগ পাবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী দেওয়ার পরিকল্পনা
রাজশাহী-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজের অতিরিক্ত চাপ নিতে হচ্ছে। এ সমস্যা কমাতে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

তিনি জানান, পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদিত হলে এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশের জন্য দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা ও সংগীত বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথাও সংসদে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

মাদ্রাসায় মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনা
মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (এসইডিপি) এর আওতায় ২০২৬-৩১ সময়কালে দেশের সব মাদ্রাসায় ‘মিড ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় এবতেদায়ী মাদ্রাসাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ৮ হাজার ২২৯টি। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৮টি, আলিম ১ হাজার ২৮৪টি, ফাজিল ৯৯৩টি এবং কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের পরিকল্পনা নেই
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ৮৭৩টি। এসব বিদ্যালয় আপাতত সরকারিকরণের কোনো পরিকল্পনা নেই।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলম সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, কম বেতনে কর্মরত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না।

জবাবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা আলোচনায় রাখিনি জাতীয়করণের কোনো কিছু।”

তিনি জানান, কোন এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজন রয়েছে এবং কোথায় শিশুরা পর্যাপ্ত শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সরকারি বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, নাকি কোনো বেসরকারি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে-পরবর্তী সময়ে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ১৬.২৫ শতাংশ
গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ঝরে পড়া কমাতে ‘স্কুল ফিডিং’, উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৩৪৯ উপজেলায় ‘মিড ডে মিল’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাগ, জুতা ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ জানান, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে ৮ হাজার ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চার বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্যও প্রাক-প্রাথমিক কার্যক্রম চালু হয়েছে।

এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সুবিধা নিয়ে আলোচনা পরে
সাতক্ষীরা-২ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল খালেক সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণসহ অন্যান্য সুবিধার আওতায় এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আনা হবে কি না।

জবাবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবতেদায়ী মাদ্রাসা বর্তমানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেই। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা বা সংসদ থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এলে তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

সব কিন্ডারগার্টেনকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ
নীলফামারী-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের সব কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে এ নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, চলতি বছরের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮৩টি কিন্ডারগার্টেন নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]