হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নিষিদ্ধ অঞ্চল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইরান। সেইসঙ্গে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রণালিটিতে একটি নতুন রুট চালুর ঘোষণা দেবে দেশটি। গত রবিবার এক সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন এ তথ্য।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজাই বলেছেন, এ নিষিদ্ধ এলাকা ‘যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঅবরোধ শুরু হয়, সেখান থেকে হরমুজ প্রণালি অঞ্চল এবং প্রণালির অন্য পাশে পারস্য উপসাগরের ভেতরের অংশ’ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া যে জাহাজগুলো এই অঞ্চলে প্রবেশ করবে, সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এতে জাহাজগুলর বিমা সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ জলপথ দিয়ে যাতায়াতকে প্রভাবিত করবে।
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে দাবি করেছেন ইরানের শীর্ষ এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ‘মিথ্যা’।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু জাহাজ প্রায়ই তাদের নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে ওমানের কাছাকাছি একটি পথ দিয়ে প্রণালিটি পার করার চেষ্টা করে। তবে জাহাজগুলোর বেশিরভাগই ‘হামলার শিকার হয়’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিষিদ্ধ অঞ্চল কার্যকর করলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও সমস্যাজনক হয়ে উঠতে পারে।
সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর স্টিফেন জুনেস বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিষিদ্ধ এলাকা কার্যকরে পরিকল্পনাটি জলপথটিতে নৌচলাচলের জন্য ওমানের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
জুনস বলেছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তিটি কার্যকর করা সম্ভব হলে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেটি মেনে নিলে ইরান নিষিদ্ধ এলাকা কার্যকর করা থেকে পিছিয়ে আসতে পারে। অন্যথায়, ওয়াশিংটনের জন্য ‘আরও সমস্যাজনক করে তুলতে কিছু একটা করার প্রস্তুতি’ তেহরানের রয়েছে।
জুনস ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, নিষিদ্ধ এলাকা কার্যকর হলে ‘পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ এরই মধ্যে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা মার্কিন বাহিনীকে আরও বড় একটি এলাকায় টহল ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে’। এতে ‘জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানি ও তাদের বিমাকারীরা এমন ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ পাড়ি দিতে আরও বেশি অনিচ্ছুক হয়ে উঠতে পারে’।
জ/রা