নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মারা গেছেন ধরে নিয়ে এক বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক শোক পালন শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১০ দিন পর ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির ভেতর থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ নামে ওই নারীকে নেপালের বেত্রাওয়াতি এলাকায় তার চারতলা বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। বন্যার পানি ও কাদায় বাড়িটি প্রায় পুরোপুরি ভেসে গেলেও ধ্বংসস্তূপের ভেতর বাতাসের একটি সরু জায়গায় বেঁচে ছিলেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল শনিবার বাড়িটির আশপাশে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ‘বাঁচাও’ বলে একটি আওয়াজ শুনতে পান তারা। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে শ্রেষ্ঠকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা দারনাল বলেন, তিনি শ্রেষ্ঠের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তার পরিবার ইতোমধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল।
বেত্রাওয়াতি নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। ওই এলাকায় শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যার পানির সঙ্গে আসা কাদা ও ধ্বংসাবশেষে বাজার ও বেশির ভাগ আবাসিক ভবন প্রায় পুরোপুরি চাপা পড়ে গেছে।
উদ্ধারকারীরা এখনো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত মানুষের সন্ধান করছেন। ধসে পড়া ভবনগুলোর ফাঁকফোকরেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের কেউ কেউ শিস বাজিয়ে আটকে থাকা মানুষের সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এর কয়েক দিন আগে বেত্রাওয়াতির বাজার এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা একটি ভবন থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহগুলো পচন ধরেছিল বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা দারনাল।
নেপালে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশজুড়ে এই দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। হাজারো মানুষ এখনো নিখোঁজ বা আটকা পড়ে আছেন।
এর মধ্যেই ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে। শুক্রবার থেকে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় টানেলের ভেতর আটকে থাকা তিনজনকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
জ/রা