দিল্লিতে ভবনধস: শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

2026-09-07T10:10:47+06:00
2026-09-07T10:10:47+06:00
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
আন্তর্জাতিক
দিল্লিতে ভবনধস: শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১০ এএম 
সংগৃহীত ছবি
প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ একটি ভবন কয়েক মাস আগেও ছিল প্রায় পরিত্যক্ত। পরে সংস্কার করে সেটিকে পেইং-গেস্ট (পিজি) হোস্টেলে রূপ দেওয়া হয়। গতকাল রোববার দিল্লির সত্য নিকেতনে ওই ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিইউ) সাউথ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি সত্য নিকেতন ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পিজি এবং ভাড়া বাসায় থাকেন। দুর্ঘটনার পর বেসরকারি আবাসনগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট আলোচনায় এসেছে।

গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সত্য নিকেতনের একটি ভবন হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হয়। খবর পেয়ে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও দিল্লি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডুসু) সভাপতি আরিয়ান মান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও দিল্লি পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতি এবং উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন।

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র সোলাঙ্কিও নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সংগঠনটির কর্মীরা এনডিআরএফ ও দিল্লি পুলিশের উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতা করেন।

এবিভিপির দিল্লি প্রদেশের এক মন্ত্রী রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে অবস্থান করেন। সংগঠনটির একজন সম্ভাব্য প্রার্থী এআইআইএমএসে ছিলেন। এবিভিপির রাজ্য মিডিয়া আহ্বায়ক হরেশ এনডিটিভিকে বলেন, ভবনের ভেতরে আটকে পড়াদের দ্রুত উদ্ধার করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

তবে একই দিনে ভবনধসের ঘটনায় দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (এমসিডি) কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করে এবিভিপি। মিছিল করে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা এমসিডি কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।

ঘটনাস্থলে যান ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার (এনএসইউআই) সভাপতি বিনোদ ঝাখরও। ভবনের নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন। পরে এনএসইউআইয়ের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ করলে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।

উদ্ধার অভিযানে এনএসইউআইয়ের কর্মীরাও সহযোগিতা করেন। পরে আহতদের দেখতে এআইআইএমএসে যান বিনোদ ঝাখর। এনডিটিভিকে এনএসইউআইয়ের নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অখিলেশ যাদব বলেন, এ ঘটনার জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে ভবনধসের ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ভবনের মালিক আনন্দ বনসালকে খুঁজছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছিল।

প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনটি কয়েক মাস আগেও ছিল পরিত্যক্তপ্রায়। পরে সংস্কার করে সেটিকে পেইং-গেস্ট (পিজি) হোস্টেলে পরিণত করা হয়। ফলে আগে খালি করে দেওয়া একটি ভবন কীভাবে আবার বসবাসের জন্য ব্যবহার করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভবনে মানুষ ওঠানোর আগে কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী সত্য নিকেতন ও আশপাশের এলাকায় বসবাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে আসন সীমিত হওয়ায় বড় একটি অংশকে পিজি কিংবা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। এসব আবাসনের ভাড়া অনেক সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করে।

বেসরকারি আবাসনগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। সত্য নিকেতনের এই ভবনধস সেই পুরোনো সমস্যাকেই আবার সামনে এনেছে। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সামনে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডুসু) নির্বাচন থাকায় ঘটনাটি ক্যাম্পাসের রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেই এবিভিপি ও এনএসইউআই-দুই সংগঠনই ঘটনাস্থলে সক্রিয় হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সহায়তার জন্য উভয় সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেল্পলাইন নম্বরও দিয়েছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন হাসপাতালে নেতাকর্মীদের অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সত্য নিকেতনের ভবনধস একদিকে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে, অন্যদিকে আসন্ন ডুসু নির্বাচনকে ঘিরে এটি ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক বিতর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]