বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশের জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জনসংখ্যা বোনাস, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং আইসিপিডি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্ব দেন স্পিকার।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে জাতীয় সংসদ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্পিকার বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিরসন, কিশোরীদের শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা-এসব ক্ষেত্রে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সংসদ-সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে কেবল সংখ্যার বিচারে বিবেচনা করলে চলবে না। জনগণকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সংসদীয় কার্যক্রমে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, জনগণের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না। একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। দক্ষ, শিক্ষিত ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান শক্তি।
জাতিসংঘের জনসংখ্যা উন্নয়ন বিষয়ক তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রিন ক্যাম্পকং বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জনসংখ্যার সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার জনবান্ধব নীতি প্রণয়ন করছে। এসব উদ্যোগে উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার সহযোগিতা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, হুইপ, সংসদ-সদস্য, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, এমপি এবং ইউএনএফপিএ’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রিন ক্যামকং।
জ/উ