সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেশভেদে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা না দিয়ে সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে এয়ারবাসের প্রস্তাবকে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক উল্লেখ করে তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ইইউ।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইক মিলার এসব কথা বলেন।
মাইক মিলার বলেন, সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। কোনো ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বাণিজ্যিক যোগ্যতাকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। এর ফলে বাংলাদেশের করদাতাদের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এয়ারবাসের প্রস্তাবের বিষয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, তাদের দৃষ্টিতে এয়ারবাসের প্রস্তাব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এয়ারবাস ও বিমান বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা দ্রুত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ইইউ।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউর বিদ্যমান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং সেগুলো দূর করতে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া ও বিবেচনাধীন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।
মাইক মিলার বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইইউর চলমান সহযোগিতা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সময় ও মনোযোগ বিনিয়োগ প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা যখন নানা ধরনের চাপের মুখে, তখন বাংলাদেশ নির্ভরযোগ্য অংশীদারের প্রয়োজন অনুভব করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করি এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি।’
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মসৃণ উত্তরণের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তাদের কাজের অন্যতম লক্ষ্য হলো সরকারের কার্যক্রমে সাফল্য আনা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর পুনরুজ্জীবন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা।
বৈঠকে অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মাইক মিলার বলেন, অশুল্ক বাধা কমানোর উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এর সঙ্গে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি, বৈষম্যহীনতা বজায় রাখা এবং কোনো প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে ব্যক্তি যেন নিজের ক্ষমতা বা পদমর্যাদার অপব্যবহার করতে না পারেন-এসব বিষয় জড়িত।
এ ছাড়া বাংলাদেশের সবুজ ও ডিজিটাল রূপান্তরেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানান মাইক মিলার।
জ/উ