স্মার্টফোনে দ্রুত চার্জ হওয়ার সুবিধা এখন ব্যবহারকারীদের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। ৩৩ ওয়াট থেকে শুরু করে ৪৫, ৬৭, ৮০ এমনকি ১২০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধার ফোনও বাজারে রয়েছে। কিছু স্মার্টফোন মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটেই ব্যাটারির বড় একটি অংশ চার্জ করতে পারে। এতে অনেকের প্রশ্ন-অল্প সময়ে এত বেশি শক্তি ব্যাটারিতে প্রবেশ করায় কি এর আয়ু দ্রুত কমে যায়?
ব্যাটারি হেলথের ওপর শুধু চার্জিং স্পিড নয়, তাপমাত্রা, চার্জ দেওয়ার অভ্যাস এবং দীর্ঘ সময় ফোনকে ১০০ শতাংশ চার্জে রাখার মতো একাধিক বিষয় প্রভাব ফেলে। ফলে ফাস্ট চার্জিংকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
স্মার্টফোনের ব্যাটারি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে ধারণক্ষমতা হারায়। কয়েক বছর পর নতুন অবস্থার তুলনায় ফোনের ব্যাকআপ কমে যাওয়া স্বাভাবিক। এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাটারির আয়ুর ওপর তাপমাত্রা এবং ফোন কীভাবে চার্জ করা হচ্ছে-এ ধরনের একাধিক বিষয় প্রভাব ফেলে।
ফাস্ট চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে অল্প সময়ে বেশি শক্তি ব্যাটারিতে প্রবেশ করে। এর ফলে ফোন ও ব্যাটারির তাপমাত্রা বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে থাকলে ব্যাটারির সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গুগলও ফোনকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করার পরামর্শ দেয়।
চার্জ দেওয়ার সময় ফোন সামান্য গরম হওয়া স্বাভাবিক। তবে ফোন যদি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে যায় কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত গরম থাকে, সেটি ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অ্যাপলের মতে, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পরিবেশে ফোন ব্যবহার বা চার্জ করা হলে ব্যাটারির আয়ুর ওপর স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণেই আধুনিক স্মার্টফোনে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিংয়ের গতি কমে যায়।
তাই অনেক সময় দেখা যায়, চার্জ দেওয়ার শুরুতে ফোন দ্রুত চার্জ হলেও প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছানোর পর গতি কমে যায়। এটি ফোনের ত্রুটি নয়। বরং ব্যাটারির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকাতে ডিভাইস নিজেই চার্জিং স্পিড কমিয়ে দিতে পারে।
বর্তমান লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে প্রতিবার সম্পূর্ণ চার্জ শেষ করে তারপর আবার চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। গুগলের মতে, ব্যাটারির সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রতিবার শূন্য থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা জরুরি নয়। একইভাবে ফোনকে দীর্ঘ সময় ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় রাখাও ব্যাটারি হেলথের জন্য ভালো নয়।
অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাংয়ের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাটারি সুরক্ষায় বিভিন্ন চার্জিং ম্যানেজমেন্ট ফিচার দিয়ে থাকে। কিছু স্মার্টফোনে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করার সীমা নির্ধারণের সুবিধা রয়েছে। আবার অ্যাডাপ্টিভ চার্জিংয়ের মতো ফিচার প্রয়োজনীয় সময়ের কাছাকাছি গিয়ে ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ করার চেষ্টা করে।
তাই ফোনে ৬৭, ৮০ কিংবা ১২০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং থাকলেই সেটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার প্রয়োজন নেই। তবে নিরাপদ চার্জিংয়ের জন্য ফোনের সঙ্গে দেওয়া চার্জার ও কেবল ব্যবহার করা, অথবা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করা ভালো।
চার্জ দেওয়ার সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে গেম খেলা কিংবা ভারী অ্যাপ চালানো এড়িয়ে চলা উচিত। একই সঙ্গে সরাসরি রোদে, গরম ঘরে বা অতিরিক্ত উষ্ণ কোনো জায়গায় রেখে ফোন চার্জ না করাই ভালো। ফোনে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমিত করার সুবিধা বা অন্য কোনো ব্যাটারি সুরক্ষা ফিচার থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
জ/উ