লোডশেডিং কমানো ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) ছয় হাজার কোটি টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য ফার্নেস অয়েল কেনা হবে।
গতকাল রোববার অর্থ বিভাগের অনুমোদনের পর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন ঋণ (অপারেটিং লোন) খাত থেকে অর্থটি বিপিডিবিকে ছাড় করা হয়। অর্থ বিভাগের উপসচিব শিহাব উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষর করা সরকারি স্মারকে বলা হয়েছে, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দৈনিক গড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে জ্বালানি কেনায় এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
ঋণের বিপরীতে কোনো সুদ দিতে হবে না। বিদ্যুৎ খাতের প্রকৃত ক্ষতির বিপরীতে সরকার এই অর্থ সমন্বয় করবে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ থেকে ঋণ পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত ২১ আগস্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে গ্যাস সরিয়ে শিল্প-কারখানায় সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
বিপিডিবি সূত্র জানায়, দেশের ৩৩টি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে ৮৭ হাজার ৩৫০ টন ফার্নেস অয়েল কেনার চাহিদাপত্র দেওয়া হয়। বেসরকারি ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদার ভিত্তিতেই এই জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ছয় লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টন ফার্নেস অয়েল আমদানিতে ছয় হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ।
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ সর্বোচ্চ ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত কমেছে। আগে এসব কেন্দ্রে দৈনিক প্রায় ৯৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এলএনজি আমদানিতে বিলম্বের কারণে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্প খাতে সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। এতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়লেও গ্যাসসংকটে শিল্প খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জ/উ