নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৩২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত আটটি জেলা থেকে ৩৩২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে কাঠমান্ডু পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে ২৮৯টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২-এ দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনো পুরোদমে চলছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার সকালে উজান থেকে হঠাৎ করে বিশাল পানি, কাদামাটি ও পাথরের ঢল নেমে আসে। পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভূমিধসের কাদামাটি ও বড় বড় পাথর মিশে ভয়াবহ রূপ নেয়। ত্রিশূলি ও নারায়ণী নদীর পানিও এ সময় বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ফুলেফেঁপে ওঠে ভোটেকোশি নদী।
প্রবল স্রোতের কারণে ঢলের পথে থাকা ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। বিস্তীর্ণ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিতে থাকা মানুষদেরও নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা এখন ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছেন। তবে ভয়াবহ পরিস্থিতি ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতেও এই দুর্যোগের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে চীন তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল।
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
জ/শা