যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় বিদেশিরা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেছিলেন কি না, তা যাচাই করতে হাজার হাজার সাময়িক ভিসা নতুন করে পর্যালোচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে পর্যটন ও ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত প্রায় দুই লাখ ভিসা বাতিল হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যৌথভাবে এই পর্যালোচনা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন কিংবা স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার চেষ্টা করেছেন, তাদের বিষয়গুলো নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভিসা আবেদনের সময়ই আবেদনকারী তার প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেছিলেন কি না, সেটিই তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিপ্রায় কী ছিল এবং তিনি ভিসা পাওয়ার সময় সেই বিষয়ে সঠিক তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
ভারতীয় নাগরিকরাও এই পর্যালোচনার আওতায় পড়বেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া কোনো অধিকার নয়; এটি একটি বিশেষ সুযোগ।
তিনি জানান, কনস্যুলার কর্মকর্তার কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হলে সেটি জালিয়াতি হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা বাতিল হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কেউ আশ্রয়ের আবেদন করলেই সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
তদন্তকারীরা মূলত আবেদনকারীর সততা এবং ভিসা পাওয়ার আগেই তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বিষয়ে কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা অভিপ্রায় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পর্যালোচনাটি বিভিন্ন ধাপে সম্পন্ন হবে।
মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান অনুযায়ী, ভিসা পাওয়া দেশটিতে চিরস্থায়ীভাবে থাকার নিশ্চয়তা নয়। পরবর্তী সময়ে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে ভিসা বাতিল করার সুযোগ রয়েছে।
জ/উ