যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও টানা ছয় মাসের যুদ্ধের মধ্যেও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি সচল রাখার প্রত্যয় জানিয়েছে ইরান। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, মূল্যস্ফীতি, রিয়ালের রেকর্ড দরপতন ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ইরানের অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় দুই বছর মেয়াদি বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেমমাতির দাবি, তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেলেও জরুরি পণ্য আমদানির জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনা মজুত রয়েছে। তবে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি বড় সংকট তৈরি করেছে।
এদিকে তেহরানের খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মূল্য ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও সংকট তীব্র হয়েছে। প্রায় ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশে উৎপাদনের দাবি থাকলেও অন্তত এক হাজার ধরনের ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর কারণে বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।
ইরান খাদ্য চাহিদার ৯০ শতাংশ দেশে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। তবে গম, চাল ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যে বিদেশি নির্ভরতা এবং তীব্র পানি সংকট এ পরিকল্পনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকলে ইরান বড় ধরনের সামাজিক-অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানির দাম বাড়ানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে, যা স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াবে। সূত্র: আল জাজিরা
জ/উ