রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যার চর্চার মাধ্যমে মাটি, পানি ও বায়ুর সুরক্ষা নিশ্চিত করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের বাজারজাত বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিশকা ইউনিয়নের খিচা এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে কৃষক দুলাল মিয়ার বাড়িতে সম্প্রতি ‘কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রিন কোয়ালিশনের আয়োজনে এবং বেসরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিকের (BARCIK) সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বিশকা, কামারিয়া, রামপুর ও চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের পারিবারিক কৃষিচর্চার সঙ্গে যুক্ত ২০ জন কৃষক-কৃষাণি অংশ নেন। এতে কৃষক গবেষক আব্দুল বারী, মৌচাষি নজরুল ইসলাম এবং বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান বক্তব্য দেন।
কর্মশালায় কৃষক-কৃষাণিরা রাসায়নিক নির্ভর কৃষির ক্ষতিকর প্রভাব ও এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
খিচা এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের ব্যবস্থাপক দুলাল মিয়া জানান, তাঁর বাড়িতে সারা বছর স্থানীয় জাতের বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়। উৎপাদিত সবজির একটি অংশ পরিবারের চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা হয় এবং উদ্বৃত্ত অংশ বাজারে বিক্রি করে আয় করা হয়। নিজস্ব কৃষি উপকরণ, স্থানীয় বীজ ও জৈব সার ব্যবহার করেই তিনি কৃষিকাজ পরিচালনা করছেন।
দুলাল মিয়া বলেন, প্রকৃতির ক্ষতি না করে কীভাবে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়ে আমার মতো অন্য কৃষকদেরও এগিয়ে আসা উচিত।
কর্মশালা থেকে কৃষক প্রতিনিধিরা বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ বন্ধে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা এবং পরিবেশবান্ধব জৈব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণিরা খিচা এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় বীজ, জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতির ব্যবহার সরেজমিনে দেখে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।