ইসলামী বিধান অনুযায়ী, মসজিদ নির্মাণ বা ব্যবস্থাপনায় হারাম সম্পদ ব্যয় করা যাবে না। তাই সুদের টাকা মসজিদে দান করা যেমন বৈধ নয়, তেমনি মসজিদের টয়লেট নির্মাণেও এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। মসজিদ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজ হালাল উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে করা উচিত। কোরআনে আল্লাহ তাআলা মসজিদ আবাদ করার বিষয়ে মুমিনদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। (সূরা তাওবা: ১৮)
ইসলামে সুদ স্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সূরা বাকারা: ২৭৫)
আরও বলা হয়েছে, হে ঈমানদাররা, আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যে অংশ অবশিষ্ট রয়েছে তা ছেড়ে দাও। (সূরা বাকারা: ২৭৮)
হাদিসেও সুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও এর সাক্ষীদের ওপর লানত করেছেন এবং বলেছেন, তারা সবাই সমান অপরাধী। (সহিহ মুসলিম: ১৫৯৮)
সুদের অর্থ নিজের ভোগে ব্যবহার করা উচিত নয়। এ ধরনের অর্থ হাতে এসে গেলে সম্ভব হলে তা যার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে তাকে ফেরত দিতে হবে। তা সম্ভব না হলে সওয়াবের নিয়ত না করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে দিয়ে দেওয়ার কথা আলেমরা উল্লেখ করেছেন। এ অর্থ দিয়ে মসজিদের টয়লেট, রাস্তা সংস্কার, রাস্তার বাতি, নলকূপ বা কূপ খননের মতো জনকল্যাণমূলক কাজও করা যাবে না-উল্লিখিত মত অনুযায়ী।
অর্থাৎ, মসজিদের মূল ভবন হোক বা টয়লেট-সুদের টাকা দিয়ে নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণ করা যাবে না। মসজিদের এসব কাজে হালাল ও বৈধ অর্থ ব্যবহার করতে হবে।