ধর্ম ডেস্ক

ইসলাম ও জীবন

2026-08-12T09:36:58+06:00
2026-08-12T09:36:58+06:00
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
ইসলাম ও জীবন
বদনজর থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়তেন নবীজি
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম 
বদনজর থেকে সুরক্ষার জন্য রাসুলুল্লাহ (স.) বিভিন্ন দোয়া পড়তেন এবং সাহাবিদেরও তা শিখিয়েছেন। বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়ার আমল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর জন্যও নবীজি (স.) এ ধরনের দোয়া পড়তেন।

শিশুদের জন্য পড়া একটি দোয়া হলো-

أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَّمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

উচ্চারণ: উয়িযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।

অর্থ: সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদনজর থেকে তোমাদের আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি।

রাসুলুল্লাহ (স.) বদনজরের প্রভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা বদনজরের প্রভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা কর। কেননা নজরের প্রভাব সত্য।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৫০৮)

কোরআনে বদনজরের উল্লেখ

পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াতেও বদনজরের প্রসঙ্গ এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কাফেররা যখন উপদেশবাণী শোনে তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে তোমাকে আছড়ে ফেলবে, আর তারা বলে, এ তো এক পাগল।’ (সুরা কলম, ৫১)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এ আয়াতের তাফসিরে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। সেখানে ‘তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে তোমাকে আছড়ে ফেলবে’ কথাটির অর্থ হিসেবে ‘তোমার প্রতি বদনজর দেবে’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আল্লাহর হেফাজত না থাকলে হিংসার কারণে কারও ওপর বদনজরের প্রভাব পড়তে পারে।

তাফসিরে ইবনে কাসিরে বলা হয়েছে, এ আয়াত বদনজরের কুপ্রভাবে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি সত্য হওয়ার প্রমাণ বহন করে। (তাফসিরে ইবনে কাসির, ৪/৪১০)

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া

বদনজর ও বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শেখানো আরও একটি দোয়া রয়েছে। হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার নবীজি (স.) অসুস্থ হলে জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, ‘হে মুহাম্মদ, আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন?’ তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ।’ তখন জিবরাইল (আ.) এ দোয়াটি পড়েন-

بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ.

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরকিকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউজিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আউ আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরকিকা।

অর্থ: ‘আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি। যেসব জিনিস আপনাকে কষ্ট দেয়, সেসব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন। আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি।’ (মুসলিম, ৫৫১২)

বদনজর বা অনিষ্টের আশঙ্কায় এই দোয়া পড়ে রুকইয়া করা যায়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রেও দোয়াটি পড়ার আমল রয়েছে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিয়মিত দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে সুরক্ষা কামনা করা যেতে পারে।

জ/উ






Loading...
Loading...
ইসলাম ও জীবন - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]