রাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া ও সকালে দ্রুত ঘুম থেকে ওঠা সুস্বাস্থ্য, সম্পদ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের শিক্ষার সঙ্গেও এর সামঞ্জস্য রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে অযথা দেরি করে জেগে থাকা অপছন্দ করতেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে এশার নামাজের পর দ্রুত ঘুমিয়ে যাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করতেন।
হজরত আবু বারযা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং এশার নামাজের পর অহেতুক গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৯)
মানুষের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আর ঘুমের জন্য রাতই সবচেয়ে উপযোগী সময়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা রাতকে মানুষের বিশ্রামের জন্য নির্ধারণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম, রাতকে করেছি আবরণ এবং দিনকে করেছি জীবিকার জন্য।’ (সুরা নাবা, আয়াত: ৯-১১)
রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন রাত জাগার অভ্যাস ঘুমের মান, মানসিক সুস্থতা ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই রাতে অযথা গল্পগুজব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা অন্যান্য অনর্থক কাজে দীর্ঘ সময় জেগে থাকা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। রাত জাগার অভ্যাস শুধু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, এটি শেষরাতের ইবাদত ও ফজরের নামাজেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার ফলে দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়। নিয়মিত দেরিতে ওঠার অভ্যাস মানুষের দৈনন্দিন কর্মপরিকল্পনা, কর্মদক্ষতা ও জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করে নিয়মিত সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠা শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সহায়ক।
ভোরে ঘুম থেকে ওঠা ইসলামী জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফজরের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দিনের শুরুতেই প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ পাওয়া যায়। ভোরের সময়টি ইবাদত, পড়াশোনা, চিন্তাভাবনা ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্যও উপযোগী।
রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের জন্য দিনের শুরুর সময়ে বরকতের দোয়া করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য তাদের ভোরবেলায় বরকত দান করুন।’ (সুনানে আবু দাউদ)
সুতরাং সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য রাতে সময়মতো ঘুমানো এবং সকালে সময়মতো ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এতে যেমন ইবাদত ও দৈনন্দিন কাজের জন্য সময় পাওয়া যায়, তেমনি শরীর ও মনের সুস্থতাও বজায় রাখতে সহায়তা করে।