জ্ঞানই মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের মূল ভিত্তি। ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ তাআলা জ্ঞানের মর্যাদার কারণেই হজরত আদম (আ.)-কে ফেরেশতাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন এবং তাদের আদম (আ.)-কে সেজদা করার নির্দেশ দেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কাউকে দেখতে চায়, সে যেন দ্বীনের জ্ঞান অর্জনকারীর দিকে তাকায়। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো আলেমের কাছে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে দীর্ঘ ইবাদতের সওয়াব লেখা হয়, জান্নাতে তার জন্য নগর নির্মাণ করা হয়, জমিন তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং ফেরেশতারা তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত বলে সাক্ষ্য দেন।
পবিত্র কোরআনের প্রথম ওহি ছিল, ‘পড়, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক: ১)। এ আয়াত মানবজাতির জন্য জ্ঞানচর্চার চিরন্তন আহ্বান। একইভাবে গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি-‘জ্ঞানই পুণ্য’-জ্ঞানচর্চার নৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
হাদিস ও তাফসিরে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের বিশেষ মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। ইমাম রাজি (রহ.) তাফসিরে কবিরে দ্বীনি জ্ঞানকে বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করে উল্লেখ করেছেন, যেমন বৃষ্টি আসমান থেকে নাজিল হয়ে জমিনকে উর্বর করে, তেমনি দ্বীনি জ্ঞান মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত করে। জ্ঞান ছাড়া সঠিক ইবাদত-বন্দেগি সম্ভব নয়, আর জ্ঞান অনুযায়ী আমল না করলে তা মানুষের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে।
ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, আল্লাহভীতি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো দ্বীনি জ্ঞান। অজ্ঞতা মানুষকে বিভ্রান্তি, কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতার দিকে ঠেলে দেয়, আর জ্ঞান মানুষকে প্রজ্ঞা, নৈতিকতা, আত্মমর্যাদা ও নেতৃত্বের গুণে সমৃদ্ধ করে। তাই মানুষের প্রকৃত মর্যাদা ধন-সম্পদ বা ক্ষমতায় নয়; বরং অর্জিত জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং সেই জ্ঞানকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর মধ্যেই নিহিত।
জ/উ