ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ বা আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কোরআনের প্রথম নির্দেশ ‘পড়ো’ এবং মহানবী (সা.)-এর হাদিসে জ্ঞান অর্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব মানুষকে অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ভ্রান্তির দিকে নিয়ে যায়, যা ইহকাল ও পরকালে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইসলামি পরিভাষায় ধর্মীয় জ্ঞান দুই ভাগে বিভক্ত—ফরজে আইন ও ফরজে কিফায়াহ। ফরজে আইন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক, আর ফরজে কিফায়াহ এমন জ্ঞান, যা সমাজের কিছু মানুষ অর্জন করলে অন্যদের দায়িত্ব থাকে না।
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফরজে আইন চারটি প্রধান বিষয়ে বিভক্ত। প্রথমত, আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, রাসুল ও আখিরাতসহ ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলোর সঠিক জ্ঞান। দ্বিতীয়ত, অজু, নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজসহ ব্যক্তিগত ইবাদতের বিধান ও সংশ্লিষ্ট মাসআলা জানা। তৃতীয়ত, কোরআনে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিষয়—অশ্লীলতা, পাপ, জুলুম, শিরক এবং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়া কথা বলার মতো হারাম বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত থাকা। চতুর্থত, মানুষের পারস্পরিক লেনদেন, সামাজিক সম্পর্ক ও দায়িত্ব-সংক্রান্ত শরিয়তের বিধান জানা, যা ব্যক্তির পেশা ও অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) আরও উল্লেখ করেন, ফরজ জ্ঞানের মূল ভিত্তি তিনটি—বিশ্বাসগত জ্ঞান, কর্মগত জ্ঞান এবং বর্জনগত জ্ঞান। অর্থাৎ সঠিক আকিদা অর্জন, শরিয়তসম্মত আমল করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হারাম ও পাপ থেকে বিরত থাকার জ্ঞান অর্জনই একজন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য।
জ/উ