ঢালিউডের আলোচিত সাবেক দম্পতি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিয়ে নিয়ে একসময় ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখার পর ২০১৭ সালে হঠাৎ করেই সন্তান আব্রাম খান জয়কে কোলে নিয়ে একটি টেলিভিশন লাইভে হাজির হন অপু। সেখানেই প্রকাশ্যে আসে তাদের বিয়ের খবর। এরপর বিষয়টি নিয়ে ঢালিউড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অপু বিশ্বাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে শাকিব খানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে ক্যারিয়ারের স্বার্থে দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন রাখেন তারা। সে সময় বিয়ের খবর প্রকাশ্যে এলে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কাও ছিল।
এ ছাড়া সিনেমার পেছনে নির্মাতা ও প্রযোজকদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ জড়িত থাকায় ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে সেই বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাননি তারা।
এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, শুধু নিজের ক্যারিয়ার নয়, শাকিব খান ও তার পরিবারের সম্মানের কথাও তিনি বিবেচনায় রেখেছিলেন। এ কারণেই দীর্ঘদিন বিয়ের বিষয়টি আড়ালে রেখেছিলেন বলে জানান তিনি।
শাকিব খানের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই তিনি নিয়মিত নামাজ পড়া ও রোজা রাখার মতো ধর্মীয় অনুশীলনও করতেন বলে সেই সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন অপু।
দীর্ঘ নয় বছর গোপন রাখার পর ২০১৭ সালে সন্তান আব্রাম খান জয়কে কোলে নিয়ে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন অপু বিশ্বাস। সেখানেই নিজের বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
অপুর সেই উপস্থিতি মুহূর্তেই আলোড়ন সৃষ্টি করে। শাকিব-অপুর গোপন বিয়ে এবং তাদের সন্তানকে ঘিরে তখন ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অপু বিশ্বাসের বক্তব্যে নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়েও সচেতনতার বিষয়টি উঠে আসে। তিনি মনে করতেন, একজন পরিচিত মুখ হিসেবে জীবনের শেষ সময়েও যেন তার ধর্মীয় পরিচয় স্পষ্ট থাকে এবং মৃত্যুর পর যথাযথ ধর্মীয় রীতি ও সম্মান বজায় থাকে।
শাকিব খান তাকে হজে যাওয়ার কথা বলেছিলেন বলেও জানান অপু। তবে ধর্মীয় বিষয়ে কোনো অবহেলা না করে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে ক্যারিয়ার, পারিবারিক সম্মান, ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় পরিচয় বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেই দীর্ঘ সময় বিয়ের খবর গোপন রেখেছিলেন বলে জানান অপু বিশ্বাস।
জ/শা