ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর পুনর্গঠন কার্যক্রমে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলিয়াদো দে লা এসপ্রিয়েলা। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের স্বার্থে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি এ অনুরোধ জানান।
গত সোমবার কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের হিসাব অনুযায়ী, এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে হাজার হাজার ভবন।
ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন নিয়ে যখন দেশটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের সিদ্ধান্তকে নতুন চাপ হিসেবে দেখছে কলম্বিয়া সরকার। দেশটির সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র হওয়ায় মার্কিন বাজার ধরে রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।
গত জুলাইয়ের শেষ দিকে কফি ও তেলজাতীয় কয়েকটি ব্যতিক্রমী পণ্য ছাড়া অন্যান্য কলম্বিয়ান পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়।
ট্রাম্পের সঙ্গে ১০ মিনিটের ফোনালাপকে ‘অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক’ বলে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি যে আমাদের সামনে এক বিশাল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমার পূর্বসূরিদের কাছ থেকে পাওয়া চরম আশঙ্কাজনক ও ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এখন পুরো কলম্বিয়াকে নতুন করে পুনর্নির্মাণ করতে হচ্ছে।’
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনে আনুমানিক ৬৪০ কোটি (৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন) ডলার প্রয়োজন হতে পারে। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী মিগেল গোমেজ জানিয়েছেন, এই অর্থের সংস্থান করতে সরকার আপাতত নতুন করে কর বাড়ানোর কথা ভাবছে না।
এদিকে কথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক নিয়ে আইনি পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউস ঘোষণা করে, কলম্বিয়াসহ প্রায় সব মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে ডানপন্থী দে লা এসপ্রিয়েলা পেশায় একজন কোটিপতি আইনজীবী ছিলেন। গত জুনে বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ইভান সেপেদাকে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত করার সময় ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
আগস্টের শুরুতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দে লা এসপ্রিয়েলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কলম্বিয়ার অবস্থান জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং কয়েকটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশকে নিয়ে গঠিত মাদক কার্টেলবিরোধী জোট ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’-এ যোগ দিয়েছেন।
এ ছাড়া দীর্ঘদিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে একটি সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: আল জাজিরা
জ/উ