দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিলের আওতায় কম সুদে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ ও ব্যবসার ভালো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ ও ৫০০ কোটি টাকা অনুদানের মাধ্যমে ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের বৈঠকে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্সিং) ও অনুদান প্যাকেজ নিয়ে কাজ চলছে। যেসব তরুণ ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী হলেও প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবে তা করতে পারছেন না, তাদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাসরুর আরেফিন জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এ ঋণের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। এর ফলে প্রচলিত ব্যাংক ঋণের ১১ থেকে ১৫ শতাংশ কিংবা এনজিও ঋণের তুলনায় উদ্যোক্তাদের অর্থের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে।
তিনি বলেন, শুধু ঋণ দেওয়ার মধ্যে উদ্যোগটি সীমাবদ্ধ থাকবে না। তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে অনুদানের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ এবং ব্যবসার পারফরম্যান্স বিবেচনায় ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
অর্থাৎ, কোনো উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা ঋণ নিলে পরবর্তী সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে আরও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ঋণের জন্য কোনো জামানত নেওয়া হবে না। ফলে সম্পদ বা জমি বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকলেও যোগ্য তরুণদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উদ্যোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত উদ্যোক্তা বাছাই করা হবে। এর মাধ্যমে তদবির বা প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।
এবিবির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন জানান, দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা চিহ্নিত ও যাচাই করবে। উদ্যোক্তা নির্বাচনের সময় ব্যবসার সম্ভাবনা, দক্ষতা এবং প্রকৃত উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এ তহবিলের আওতায় শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসাকে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। উৎপাদন ও বাণিজ্য-দুই ধরনের উদ্যোগই এর আওতায় আসতে পারে। এর মধ্যে মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি তৈরি এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
জ/উ