নিউজ ডেস্ক

জাতীয়

2026-07-30T12:53:27+06:00
2026-07-30T12:53:27+06:00
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
বাংলা English
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
সয়াবিন তেল-চিনিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম 
দেশের মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ব্যবহৃত সয়াবিন তেল ও চিনিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে দুটি পৃথক গবেষণায়। গবেষকদের মতে, অজান্তেই প্রতিদিন খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করছে অসংখ্য অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এক গবেষণায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ৬০টি সয়াবিন তেলের নমুনা বিশ্লেষণ করে প্রতিটি নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতি লিটার তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি কণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বোতলজাত ব্র্যান্ডেড তেলে গড়ে ৪৮ হাজার ৬৭টি এবং খোলা তেলে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি কণা পাওয়া যায়। ফলে খোলা তেলে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বখ্যাত জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালাইসিস-এ প্রকাশিত গবেষণায় সয়াবিন তেলে ছয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। একই বিষয়ে এলসেভিয়ারে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় তেজগাঁও এলাকা থেকে সংগ্রহ করা খোলা তেলের নমুনায় সর্বোচ্চ দূষণ পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, প্লাস্টিকের পাত্রের পুনর্ব্যবহার, খোলা অবস্থায় খাদ্য সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক পরিবেশ দূষণ এর অন্যতম কারণ হতে পারে। এছাড়া উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং ও পরিবহনের বিভিন্ন ধাপকেও সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


অন্যদিকে, একই জার্নালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সাত ধরনের ব্র্যান্ডেড ও খোলা চিনির নমুনার ৯৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত কণা শনাক্ত হয়েছে। ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি কণা পাওয়া যায়। গবেষণাটি পরিচালনা করেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের মতে, উৎপাদন, পরিশোধন, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং প্লাস্টিক প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধাপ থেকেই এসব কণা খাদ্যে মিশতে পারে।

দুই গবেষণাতেই পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, পিইটি, নাইলন, পিভিসি, পলিইউরেথেন ও টেফলনসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে আঁশ বা ফাইবারজাতীয় কণা, যা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক, প্লাস্টিকের যন্ত্রপাতি, ফিল্টার, পাইপ, প্যাকেজিং উপকরণ কিংবা বাতাসের মাধ্যমে খাদ্যে মিশতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শুধু সয়াবিন তেল থেকেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে বছরে প্রায় ৬ হাজার ৪৪১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব কণা শরীরে জমে প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষকদের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।


কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, যেসব খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, সেগুলো মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদন নিয়েই বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি পুনরায় পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শামীম আহমেদ বলেন, অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া অন্ত্রের প্রদাহ, হজমের সমস্যা, উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং স্নায়বিক রোগের ঝুঁকির সঙ্গেও এর সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জ/উ






Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]