৫-৭ খাতেই বাড়তে পারে রপ্তানি আয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থনীতি ডেস্ক

অর্থনীতি

2026-06-23T18:47:43+06:00
2026-06-23T18:47:43+06:00
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬,
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
অর্থনীতি
৫-৭ খাতেই বাড়তে পারে রপ্তানি আয় : বাণিজ্যমন্ত্রী
অর্থনীতি ডেস্ক
⏲ ৬:৪৭ পিএম | ২৩ জুন, ২০২৬ | মঙ্গলবার
৫-৭ খাতেই বাড়তে পারে রপ্তানি আয় : বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বর্তমানের প্রায় ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা” শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সম্ভাবনাময় ৫ থেকে ৭টি খাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। তিনি জানান, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা ধরে রাখা এবং নতুন বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করা।

তিনি বলেন, শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।


মন্ত্রী জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে বিদ্যমান অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জুট খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির তুলনায় মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট-ভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদনে বহুগুণ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার সমন্বিত অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য।


কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

বাণিজ্য সচিব বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বেসরকারি খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদার ভিত্তিতে সেক্টরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন, নীতিগত সহায়তা ও প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও টেকসই মডেল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং সম্ভাব্যভাবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটি পরিচালনার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি। এতে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

জ/উ



Advertisement
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত