লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম খাবারের স্বাদ ও রং বাড়ানোর পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান সরবরাহ করে। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে এবং কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু ক্যাপসিকাম খেয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা সম্ভব নয়; এটি স্বাস্থ্যকর ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবে উপকারী।
ক্যাপসিকাম সবুজ থেকে হলুদ ও লাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এতে থাকা কিছু উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদানের পরিমাণ বাড়ে। লাল ক্যাপসিকামে ক্যাপসানথিন, ক্যাপসোরুবিন ও লাইকোপেনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। হলুদ ক্যাপসিকামে পাওয়া যায় লুটেইন ও ভায়োলাক্সান্থিন। এসব উপাদান কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
যেভাবে খেলে পুষ্টিগুণ বেশি পাওয়া যায়
অতিরিক্ত সময় বা বেশি তাপে রান্না করলে ক্যাপসিকামের কিছু পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে ভিটামিন সি কমে যেতে পারে। তাই কাঁচা সালাদ, হালকা ভাপে রান্না বা অল্প তেলে দ্রুত স্টার-ফ্রাই করে খাওয়া যেতে পারে। ক্যারোটিনয়েড শরীরে শোষণে স্বাস্থ্যকর চর্বি সহায়ক হওয়ায় অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল বা সরিষার তেলের সঙ্গে ক্যাপসিকাম খাওয়া যেতে পারে।
সাদা অংশ ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই
ক্যাপসিকাম কাটার সময় ভেতরের সাদা অংশ পুরোপুরি ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। এতে বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকতে পারে। তবে শক্ত বীজ ও কোর বাদ দিয়ে বাকি অংশ খাবারে ব্যবহার করা যায়।
ডাল-ছোলার সঙ্গে উপকারী
ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শরীরে শোষণে সহায়তা করে। তাই ডাল, ছোলা বা পালং শাকের মতো খাবারের সঙ্গে লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম যোগ করা যেতে পারে।
প্রতিদিনের খাবারে লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম রাখা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সহজ একটি উপায়। তবে ক্যান্সার প্রতিরোধে কোনো একক খাবারের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্যসহ বৈচিত্র্যময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা জরুরি।
জ/উ