ঘাড়ে ব্যথা এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সমস্যা। ঘুম থেকে উঠে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, সামান্য নড়াচড়া করলেই ব্যথা কিংবা ঘাড় ঘোরাতে না পারার মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও সমস্যার মূল কারণ থেকে যায়।
শুধুমাত্র কম্পিউটার বা ল্যাপটপে একটানা কাজ করলে, বা দীর্ঘ সময় ঘাড় নিচু করে বই পড়লে বা মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করলেই ঘাড়ে ব্যথা হয় না। নিউজ এইট্টিনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্র বলেছেন, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি। তার মতে, শরীরে ভিটামিন ডি কমে গেলে ঘাড়, কাঁধের যন্ত্রণা শুরু হয়।
অনেকেই মনে করেন, সূর্যের আলোয় বের হলে শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হবে না। কিন্তু বিষয়টা এতটাও সহজ নয়। সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যাবে ঠিকই, তবে ত্বক থেকে তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার শরীরে ছড়িয়ে পড়ার যে পদ্ধতি, তা খুবই ধীর গতিতে হয়। সে ক্ষেত্রে খাবার থেকেই সরাসরি ভিটামিন ডি শরীরে ঢুকতে পারে। যেমন- তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে, সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ডিমেও ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। ইলিশ মাছ, রুই-কাতলার পেটি ও তেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটি, দানাশস্য ও ওটস, ফর্টিফায়েড দুধ ও দইয়ে ভিটামিন ডি মেলে।
অনেক সময় হঠাৎ করে খুব কঠিন ব্যায়াম করতে গেলেও ঘাড়ের পেশিতে টান লাগে। পাশাপাশি, শরীরে প্রোটিন কমে যাওয়াও ঘাড়ের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার একটা বড় কারণ। ডিম, মাছ আর মাংস-এসব খাবারে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। এছাড়া রুই, কাতলা বা স্যামন মাছের মতো সামুদ্রিক ও দেশি মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। নিরামিষের মধ্যে দুধ, পনির, ডাল, শিম, সয়াবিন ও টোফুতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়।
কখনও কখনও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলেও ঘাড়ে অসহ্য ব্যথা হয়। শরীরে পানির ঘাটতি হলেও পেশিতে ক্র্যাম্প ধরে। তবে শুধু পানি খেলেই হবে না, পানিতে সঠিক খনিজ পদার্থ থাকাটাও জরুরি। কারণ, সোডিয়াম পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলেও ঘাড় শক্ত হয়ে যেতে পারে। যারা বেশি খেলাধুলা করেন, ঘামের মধ্য দিয়ে তাদের শরীর থেকে অনেকটা পানি বেরিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখতে লবণ পানি খেতে বলা হয।
জ/শা