লং মার্চ ও সিলিন্ডার দেখিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-11-05T13:14:03+06:00
2026-11-05T13:14:03+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬,
২০ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
লং মার্চ ও সিলিন্ডার দেখিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১:১৪ পিএম | ৫ নভেম্বর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
লং মার্চ কিংবা ফাঁকা গ্যাস সিলিন্ডার প্রদর্শন করে দেশের মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সংসদে এসে বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, হুমকি-ধমকি ও আন্দোলনের পথে না গিয়ে সংসদের ভেতরে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসে সরকারের কাছে পরামর্শ ও প্রস্তাব দিতে পারে বিরোধী দল। দেশ পরিচালনায় তাদের গঠনমূলক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে সরকার।

একই অনুষ্ঠানে কৃষিতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত আলু কাজে লাগিয়ে দেশে স্টার্চ বা মাড় তৈরির শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচির সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কিংবা মসুর ডালের ঘাটতি লং মার্চের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হলে সবচেয়ে বড় লং মার্চ সরকারই করত। কিন্তু লং মার্চ করে বা ফাঁকা সিলিন্ডার দেখিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ পাঁচ বছরের জন্য সরকারকে নির্বাচিত করেছে। এই সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনমান ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার কী ভূমিকা রাখছে, তা জনগণ দেখতে চায়। মেয়াদ শেষে পাঁচ বছর পর ব্যালটের মাধ্যমেই জনগণ সরকারের কাজের মূল্যায়ন করবে।

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় বন্ধুদের অনুরোধ করব, আমাদের হুমকি-ধমকি, আন্দোলনের পথ বেছে না নিয়ে সংসদে আসুন। সংসদের বাইরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এসে আমাদের সাজেশন দেন, দেশ পরিচালনায় আমরা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারি। এ ব্যাপারে আপনাদের সাজেশন, উপদেশ, পরামর্শ আমরা কামনা করছি।’

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বেকারি, গ্লুকোজ, বস্ত্রশিল্পের ফিনিশিং, ওষুধ উৎপাদন এবং কাপড় ধোয়ার কাজে স্টার্চ পাউডার ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্চ পাউডার আমদানি করে। অথচ দেশে উৎপাদিত আলুর একটি অংশ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে এবং নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই আলু থেকে যদি আমরা স্টার্চ তৈরি করার ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলি, তাহলে বাংলাদেশের এই ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে যে স্টার্চ পাউডার আমদানি করছি, এখানে তা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে।’

এ ধরনের শিল্প স্থাপনে দেশি-বিদেশি গবেষক ও কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ছোট ও বড়—উভয় পরিসরেই এ শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে হবিগঞ্জে একটি কোম্পানি সীমিত পরিসরে নিজেদের প্রয়োজনীয় স্টার্চ উৎপাদন করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনিও ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আলু থেকে স্টার্চ উৎপাদনের জন্য আট থেকে দশটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণের পর যে পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত থাকে, তা শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

আলু ও অন্যান্য সবজি রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য দ্রুত বিদেশে পাঠানোর সুবিধা তৈরি করতে বগুড়াকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর এবং সেখানে কার্গো সুবিধা চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের আলুসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সহজ হবে।

কৃষি গবেষকদের মূল্যায়ন ও মর্যাদা বাড়ানোর বিষয়েও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষি গবেষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো এবং সমাজে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে গবেষকদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই বলেন, কৃষিই দেশের মানুষকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু কৃষি, কৃষক এবং কৃষি নিয়ে গবেষণাকারীদের জন্য বাস্তবে কতটুকু করা হয়েছে, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

গবেষকদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো দেশের সবচেয়ে মেধাবী মানুষদের মধ্যে গবেষকেরা অন্যতম। তাঁদের মেধা ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গবেষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

উল্লেখ্য, ১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলায় ১২টি দেশের প্রায় ২০০টি কোম্পানি অংশ নিয়েছে। মেলায় রয়েছে ৪৭৩টি স্টল। তুরস্ক, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের কৃষি প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য উদ্ভাবন এবং যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে।

জ/দি


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত