খাদ্যনিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-11-02T11:58:37+06:00
2026-11-02T11:58:37+06:00
সোমবার ● ২ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
খাদ্যনিরাপত্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১১:৫৮ এএম | ২ নভেম্বর, ২০২৬ | সোমবার
সংগৃহীত ছবি
সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির ওএমএস কার্যক্রম এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম (এমপি)।

গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর পৌরসভায় ওএমএস ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এদিন মানিকগঞ্জে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকিমূল্যে চাল ও আটা বিক্রির ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রম চালু করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে।

উন্নয়নকাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। তাই জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন থাকতে হবে। কোথাও কাজের মান নিয়ে অসংগতি বা অনিয়ম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু উন্নয়নকাজ শেষ করলেই চলবে না, সেগুলো টেকসই ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন এসব উদ্যোগের সুফল পান, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী দামে চাল ও আটা পৌঁছে দিতে মানিকগঞ্জ শহরের পাঁচটি নির্ধারিত স্থানে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর ফলে শহরের নিম্নআয়ের মানুষ সরকারি ভর্তুকিমূল্যে সহজেই চাল ও আটা কেনার সুযোগ পাবেন।

এদিন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণকাজের উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

উদ্বোধন করা সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে বেতিলা-মিতরা ধলেশ্বরী ব্রিজ ভায়া মকিমপুর জিপিএস অ্যান্ড জে কে হাইস্কুল সড়কের ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার অংশ। এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় সড়কটি পুবাইল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সৈয়দপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত, যার দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার। এ সড়কের উন্নয়নে ব্যয় হবে ২ কোটি টাকা।

এ ছাড়া বেংরই ইসমাইলের বাড়ি থেকে মাকাই ঘোষবাড়ি পর্যন্ত ১ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

তিনটি সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে মোট ব্যয় হবে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। এসব কাজ শেষ হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে সকালে ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে তিনি বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নেন এবং যুব উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের উদ্যোগ ও উৎপাদিত পণ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মেধা, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা সম্ভব। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অবহেলায় নষ্ট না করে প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ঋণ ও অনুদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আফরোজা খানম বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচক এবং সৃজনশীল কাজে ব্যবহার করতে হবে। অসৎ উপায়ে সাময়িক সাফল্য অর্জনের চেষ্টা না করে সততা, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পথে এগোতে হবে। একই সঙ্গে মানিকগঞ্জের তরুণদের মেধা, প্রতিভা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম ও সিভিল সার্জন ডা. আইভি। স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম।

এ সময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা, যুব উদ্যোক্তা, প্রশিক্ষণার্থী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত