জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব দেশের মূল্যস্ফীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সদ্যবিদায়ি সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় পর্যায়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে কমেছে মজুরি বৃদ্ধির হার। অর্থাৎ মানুষের ব্যয়ের চাপ বাড়লেও সে তুলনায় আয় বাড়ার গতি কমেছে।
বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির অর্থ হলো, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কোনো পণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ হলে একই পণ্য কিনতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ১০৮ টাকা ৩৪ পয়সা খরচ হয়েছে।
সিপিআই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গত মাসের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর এর প্রভাব মূল্যস্ফীতির হিসাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। আগস্টে জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমেছে। আগস্টে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
টানা তিন মাস ৯ শতাংশের বেশি থাকার পর জুলাই ও আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছিল। তবে সেপ্টেম্বরে এসে আবারও তা বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে পণ্য ও সেবার দামে পড়তে শুরু করেছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও বাড়তি ব্যয়ের চাপে পড়ছে।
গ্রামীণ এলাকাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে সেখানে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
শহরাঞ্চলে সেপ্টেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। আগস্টে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এ সময়ে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশে নেমেছে।
এদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও কমেছে মজুরি বৃদ্ধির হার। বিবিএসের মজুরি হার সূচক অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। আগস্টে এ হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, শিল্পে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। ফলে সেপ্টেম্বরে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে সাধারণ মজুরি বৃদ্ধির হার রয়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশে।
বিবিএস জানিয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলার ১৪৩টি হাটবাজার থেকে সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির এসব পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
জ/শা