মাঠের লড়াইয়ে হুথিরা যখন একের পর এক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে, তখন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সৌদি আরবের হোটেলে বসে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও হুথি-সমর্থক সাংবাদিক হুসেইন আল-বুখাইতির মতে, ইয়েমেনের এই সৌদি-সমর্থিত নেতৃত্ব ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন’।
সানা থেকে আল জাজিরার কাছে বলেন, ইয়েমেনের নেতারা ২০১৫ সাল থেকেই রিয়াদের হোটেলে রয়েছেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনে ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করেছিল সৌদি জোট। সম্প্রতি ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন একটি বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আল-বুখাইতি বলেন, এটি বাস্তবে কী কাজে আসবে? তার মতে, সৌদি আরব নতুন করে বড় কোনো সামরিক জোট না গড়লে এবং সর্বাত্মক হামলা না চালালে এ ধরনের ঘোষণার কোনো মানে হয় না।
মাঠের চিত্র এখন অনেকটাই হুথিদের পক্ষে। তারা তাইজ ও এডেনের মধ্যবর্তী প্রধান মহাসড়কের বেশ কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এটি ছিল সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর প্রধান সরবরাহ পথ, যা এখন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। গত দুই মাসের লড়াইয়ের আগে তাইজ প্রদেশের ৭০ শতাংশের বেশি এলাকা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর হাতে ছিল। তবে বর্তমানে এর প্রায় ৮০ শতাংশই হুথিদের দখলে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘স্বাধীন’ হতে পারে বলে ধারণা করছেন আল-বুখাইতি।
এমন পরিস্থিতির মাঝেই ইয়েমেনের মিত্র সরকারকে নতুন কিস্তিতে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার বা ২২ কোটি ৪০ লাখ রিয়াল আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, এই অর্থ ইয়েমেনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আয়ের নিশ্চয়তা এবং বাজার চাঙ্গা করতে ভূমিকা রাখবে।
সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের জানান, এই তহবিল সরকারের আর্থিক কার্যক্রম গতিশীল করার পাশাপাশি নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। সংবাদ সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০১২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইয়েমেনে সৌদি আরবের মোট অর্থনৈতিক সহায়তার পরিমাণ ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
জ/রা