বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগকর্তাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপনে আগামী ডিসেম্বরেই পরীক্ষামূলকভাবে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ চালু হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগ ও ৬৪ জেলায় এই সেন্টার সম্প্রসারণ করা হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কথা জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার।
মন্ত্রী জানান, দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শ্রমিক ও কর্মীদের চাহিদা সংগ্রহ করে অনলাইন ও অফলাইন ডাটাবেস প্রস্তুত করা হবে। এই ডাটাবেসের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু এবং দেশব্যাপী ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা চাকরিপ্রার্থীদেরও শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্থাৎ জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টিও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক শ্রমবাজারে কোন খাতে কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব কেন্দ্রে নিবন্ধিত চাকরিপ্রার্থীরা তাদের অর্জিত শিক্ষা ও মেধা অনুযায়ী শূন্য পদে নিয়োগের সরাসরি সহায়তা পাবেন। প্রাথমিকভাবে একটি সমন্বিত ধারণাপত্র তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরাসরি একটি বড় অধিদপ্তর গঠনের বদলে ৬ মাস থেকে ১ বছরের পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এর যাত্রা শুরু হবে এবং অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে এটি সারাদেশে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
জ/রা