মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখতে সুইডেনের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রতিমন্ত্রী এ সহযোগিতা কামনা করেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে হুমায়ুন কবির বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সুইডেনের অব্যাহত সহায়তা চান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।
জবাবে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে সুইডেনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে সুইডেনের সহযোগিতার জন্য তিনি দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
আলোচনায় দুই দেশের উন্নয়ন সহায়তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলোও উঠে আসে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ওষুধ, প্রকৌশল ও টেলিযোগাযোগ খাতে সুইডেনের বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সুবিধা নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
গত মাসে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যা অন্তর্ভুক্তকরণবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক ছিল বাংলাদেশ ও সুইডেন। ওই আয়োজনে সহযোগিতার জন্য সুইডেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে অভিবাসন ইস্যুতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে উভয়পক্ষ মতবিনিময় করে।
নিকোলাস উইকস দায়িত্ব গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সুইডেন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের উদ্যোগগুলোরও প্রশংসা করেন সুইডিশ রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে উভয়পক্ষ।
জ/উ