বড় স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও অনেক সময় হতাশ হয়েই ফিরতে হয় বাংলাদেশকে। সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান গেমসেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দেশ ছাড়ার আগে সোনা জয়ের লক্ষ্য জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসরে কোনো ম্যাচেই জয় পায়নি লিটন দাসের দল।
বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে না হয়েই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। শেষ চারে পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই অন্তত একটি পদক নিশ্চিত হতো। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে হেরে যায় বাংলাদেশ। ফলে সোনা কিংবা রুপা জয়ের সুযোগও শেষ হয়ে যায়।
এরপর ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে সেই লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে হেরে যায় টাইগাররা। টানা এমন ব্যর্থতায় সমালোচনার মুখে পড়ে দল। ম্যাচ শেষে দর্শকদের কাছে ক্ষমাও চান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
সালাউদ্দিন বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল, সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
অধিনায়ক লিটন দাসও দলের ব্যর্থতা স্বীকার করেন। তবে তার বক্তব্যে অনুতাপের চেয়ে ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ের কথাই বেশি উঠে আসে।
লিটন বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক বিষয়। আমরা দেশ থেকে যখন এসেছি, একটা বড় টার্গেট নিয়ে এসেছি। যখন সেরাটা দিতে পারিনি, টিম হিসেবে, ক্যাপ্টেন হিসেবে সবারই খারাপ লাগবে এবং খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ টিম অনেক কিছুই দিয়েছে অতীতে। আমার মনে হয় ভবিষ্যতেও দেবে। আমরা ওইটার জন্যই চেষ্টা করব আবার।’
লিটনের এমন বক্তব্য অবশ্য নতুন নয়। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স না থাকলেও সংবাদমাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আসছেন তিনি। সাদা বলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার কাছ থেকে বাড়তি প্রত্যাশা রয়েছে সমর্থকদের।
দলের এই ব্যর্থতায় ব্যাটারদের পারফরম্যান্সও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো ম্যাচেই ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি। তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসানের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।
দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আলিস আল ইসলামকে না খেলানো নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। স্পিন সহায়ক উইকেটে অতিরিক্ত পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
দলের এমন ব্যর্থতা প্রসঙ্গে বিসিবির শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এমন হার অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক, মন খারাপ হওয়ার মতোই বিষয়। আমরা সোনা জয়ের জন্যই জাতীয় দল নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না। এটা দুঃখজনক। ব্যাটারদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হতো আরও, সেটা তারা করতে পারেনি। স্পিনাররা ভালো করেছে। দলটা কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতোই ছিল। জাতীয় দল এজন্যই পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে তারা ব্যর্থ।’
এদিকে ম্যাচের আগের দিন এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরেছেন তাওহীদ হৃদয়, সাইফ হাসান ও রিশাদ হোসেন। এর মধ্যে তাওহীদ হৃদয় ও সাইফ হাসানের পারফরম্যান্সে ওই ভ্রমণের প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুজনই ম্যাচে ব্যর্থ হন। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাদের আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে।
বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘আমরা জেনেছি এমনটা। তবে খেলা চলাকালে এমনটা ঠিক না। এশিয়ান গেমসে যে লক্ষ্য নিয়ে গিয়েছিলাম, সেটা সফল হলো না।’
জ/উ