টালিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিয়ে নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এতদিন ব্যক্তিগত জীবনকে অনেকটাই আড়ালে রাখা এই অভিনেত্রীর জীবনে নতুন সম্পর্কের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
নেটিজেনদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে-মিমির জীবনে আসা সেই ব্যক্তি কে? একাংশের দাবি ছিল, তিনি ভারতীয় নৌসেনার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তবে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, তিনি নৌসেনার জওয়ান বা কর্মকর্তা নন। তার নাম সিদ্ধার্থ এবং তিনি পেশায় একজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মেরিন ইঞ্জিনিয়ার।
সিদ্ধার্থ কলকাতার খ্যাতনামা ‘কলকাটা বয়েজ স্কুল’ থেকে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তী সময়ে নৌ-প্রকৌশল বা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে আন্তর্জাতিক মার্চেন্ট নেভিতে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ২০০৮ সালের মার্চ থেকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠান ‘Shell Ship Management Limited’-এর সঙ্গে কাজ করছেন সিদ্ধার্থ।
শিক্ষানবিস হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সিদ্ধার্থ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ইঞ্জিন রুমের দায়িত্ব সামলানো এবং বিভিন্ন সমুদ্রপথে কাজ করাই তার পেশার অংশ।
এদিকে মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েও খবর ছড়িয়েছে। জানা গেছে, নিকটাত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে মিমি ও সিদ্ধার্থ আইনি রেজিস্ট্রি করতে পারেন। এরপর ডিসেম্বরের শীতের সময়ে পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে তাদের ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এতদিন কাজ ও পোষ্যদের নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন মিমি। তার জীবনে নতুন সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসায় ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সমুদ্র ও জাহাজের জগতের সিদ্ধার্থের সঙ্গে টালিউড অভিনেত্রীর সম্পর্কের খবর তাই এখন বিনোদন অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিনোদন জগতের আলো-ঝলমলে পরিবেশ থেকে সিদ্ধার্থের পেশাগত জীবন বেশ আলাদা। তবে চলচ্চিত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও টালিপাড়ার কয়েকজন তারকা বন্ধুর ঘনিষ্ঠ মহলে তার যাতায়াত ছিল বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে গত বছরের দুর্গাপূজার এক আড্ডায় বন্ধুদের সঙ্গে মিমি চক্রবর্তীর পাশাপাশি সিদ্ধার্থকেও হাসিমুখে দেখা গিয়েছিল। এতদিন বিষয়টি অনুরাগী ও সংবাদমাধ্যমের নজরের বাইরে থাকলেও সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে মিমি ও সিদ্ধার্থের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার মধ্যেও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। এখনো মিমি চক্রবর্তী তার ভ্যারিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সিদ্ধার্থকে ফলো করেন না। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকটাই আড়ালে ছিল।
জ/উ