সময়ের বরকত লাভে যে ৯টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

ধর্ম ডেস্ক

ইসলাম ও জীবন

2026-09-24T20:14:46+06:00
2026-09-24T20:14:46+06:00
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
ইসলাম ও জীবন
সময়ের বরকত লাভে যে ৯টি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সময় আল্লাহ তাআলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এর যথাযথ মূল্যায়ন না করলে মানুষ প্রকৃত অর্থেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়ের অপচয় জীবনের বরকত কমিয়ে দেয়। তাই সময় ও সুযোগ হারিয়ে যাওয়ার আগেই এর সদ্ব্যবহার করা জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে বেশির ভাগ মানুষ প্রতারিত (ক্ষতিগ্রস্ত) : সুস্বাস্থ্য ও অবসর সময়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটির আগে মূল্য দাও : বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্বাস্থ্য, দারিদ্র্যের আগে সম্পদ, ব্যস্ততার আগে অবসর এবং মৃত্যুর আগে জীবন।’ (মুসতাদরাক হাকিম, হাদিস : ৭৮৪৬)

সময়ের বরকত কী

‘বরকত’ বলতে কল্যাণ ও প্রাচুর্য বোঝায়। কোনো বিষয়ে বরকত থাকা মানে তাতে কল্যাণ, প্রাচুর্য ও স্থায়িত্ব থাকা। যেমন অর্থের বরকত হলো তা মঙ্গল ও কল্যাণের কাজে ব্যয় হওয়া এবং সেই কাজে কল্যাণ ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাওয়া। মানুষের জীবনকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সময়ের বরকত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ যুগে সময় দ্রুত চলে যাবে

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের আগে সময় দ্রুত অতিবাহিত হবে। জ্ঞান কমে যাবে, ভূমিকম্প বেড়ে যাবে, ফিতনা ছড়িয়ে পড়বে এবং হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৩৬)

অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘এমন সময় আসবে যখন এক বছর এক মাসের মতো, এক মাস এক সপ্তাহের মতো, এক সপ্তাহ এক দিনের মতো, এক দিন এক ঘণ্টার মতো এবং এক ঘণ্টা আগুন জ্বালানোর মুহূর্তের মতো মনে হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৩২)

আলেমরা এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, এর অর্থ সময়ের বরকত কমে যাওয়া অথবা বাস্তবিক অর্থেই সময় দ্রুত অতিবাহিত হওয়া। বর্তমানে এক ঘণ্টা ৬০ মিনিট, এক দিন ২৪ ঘণ্টা এবং এক বছর ১২ মাসই রয়েছে। তবু অনেকের মনে হয়, সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে বা সময় পাওয়া যাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ হিসেবে সময়ের বরকত কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন আলেমরা।

সময়ে বরকত লাভের ৯ উপায়

১. সময়ের মূল্য উপলব্ধি করা
সময় মানুষের প্রকৃত মূলধন। এই সময়কে কাজে লাগিয়েই মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জন করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি তার করা ভালো ও মন্দ কাজ সামনে উপস্থিত পাবে।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩০)

২. ভোরে কাজ শুরু করা
রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য তাদের সকালবেলার কাজে বরকত দান করুন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১২১২) তাই ভোরে ইবাদত, পড়াশোনা ও কাজ শুরু করার মাধ্যমে সময়কে ফলপ্রসূভাবে কাজে লাগানো যায়।

৩. সময়ের জবাবদিহির কথা স্মরণ রাখা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন বান্দার দুই পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে-তার জীবন কোথায় ব্যয় করেছে, তার জ্ঞান কী কাজে লাগিয়েছে, তার সম্পদ কোথা থেকে অর্জন করেছে ও কোথায় ব্যয় করেছে এবং তার শরীর কী কাজে ব্যবহার করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)

৪. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটি এক বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি।’ (সুরা : সাদ, আয়াত : ২৯)

কোরআন তিলাওয়াত মানুষের সময়, জীবন ও কর্মে বরকত নিয়ে আসে। বহু আলেমের অভিজ্ঞতা ছিল, তাঁরা যত বেশি কোরআন পড়তেন, তাঁদের কাজ তত সহজ ও ফলপ্রসূ হতো।

৫. সময় নষ্টকারী বিষয় থেকে দূরে থাকা
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন, ‘সময় নষ্ট করা মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ; কারণ মৃত্যু তোমাকে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে, আর সময়ের অপচয় তোমাকে আল্লাহ ও আখিরাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে।’

অপ্রয়োজনীয় টেলিভিশন দেখা, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় দেওয়া, উদ্দেশ্যহীন গেম খেলা, অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, অতিরিক্ত ঘুম বা রাত জাগা, অলসতা এবং কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস—এসব সময় নষ্টের অন্যতম কারণ।

৬. অল্প সময়কেও কাজে লাগানো
সালাফে সালেহিন সময়ের সামান্য অংশও অপচয় করতেন না। অবসর পেলেই তাঁরা কোরআন তিলাওয়াত, জিকির অথবা ইলম চর্চায় ব্যস্ত থাকতেন। তাঁদের জীবন থেকে অল্প সময়ের যথাযথ ব্যবহারের শিক্ষা পাওয়া যায়।

৭. নামাজের সময় অনুযায়ী রুটিন তৈরি করা
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষকে সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করায়। একই সঙ্গে জীবনের অনিয়মিত রুটিনকে একটি সুনির্দিষ্ট ও পবিত্র শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)

৮. জীবনের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা
ইসলামি পরিভাষায় ‘ফিকহুল আওলাউইয়্যাত’ বা অগ্রাধিকার বিজ্ঞান রয়েছে। কোন কাজ আগে এবং কোনটি পরে করতে হবে, ইসলামের দৃষ্টিতে তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করাই এর উদ্দেশ্য। ইমাম শাফেয়ি বলেছেন, একজন বুদ্ধিমান মানুষের উচিত কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা-প্রথমে জরুরি ফরজ দায়িত্ব, এরপর গুরুত্বপূর্ণ কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা। (কিতাবুল উম্ম : ১/৮৯)

৯. অল্প সময়ে বেশি সওয়াবের আমল করা
‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বা ‘আল্লাহু আকবার’ বলা সদকার সমতুল্য। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ কিয়ামতের দিন আমলের পাল্লা ভারী করবে। আর ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বললে জান্নাতে একটি খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। (তিরমিজি)

কোরআনের প্রতিটি অক্ষর পাঠে অন্তত ১০ নেকি লাভের কথা হাদিসে এসেছে। সুরা ইখলাস তিনবার পাঠ করলে সম্পূর্ণ কোরআন খতমের সওয়াব এবং ১০ বার পাঠ করলে জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণের সুসংবাদ রয়েছে। ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ জান্নাতের অন্যতম অমূল্য ভাণ্ডার। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

সময় একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করা উচিত।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম ও জীবন - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]