ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করলে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনা হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মান জানানো হয়নি বলে সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ড. শফিকুল ইসলাম মাসউদ।
তিনি বলেন, কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা হওয়া হাফেজ ও কারিদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা ও সম্মাননা দিতে হবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সম্প্রতি মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড্ডীন করার বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন তিনি।
জামায়াত এমপি বলেন, ‘১২৩টি দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন আমার দেশের সন্তান, আমার বাউফলের সন্তান। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তার কাছে যাওয়ার এবং তাকে কাছে পাওয়ার।’ আন্তর্জাতিক এ সাফল্যের পরও রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট দল ভালো করলে আমরা এই পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানাই। অথচ প্রথম স্থান অধিকার করা এই সন্তানদের জন্য আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে কী করেছি?’ তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কেবল একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে নামমাত্র রিসিভ করা হয়েছে। অথচ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কেউ আন্তর্জাতিক সাফল্য পেলে তাদের গাড়ি, বাড়ি, প্লট ও নানা সম্মাননা দেওয়া হয়।
তাহলে কোরআনের এই প্রতিযোগিতায় যারা অবদান রাখলেন, আমরা কেন তাদের মূল্যায়ন করতে পারলাম না?’ দেশের এই কৃতিসন্তানদের যথাযথ মূল্যায়ন না করার পেছনে মানসিকতার সংকীর্ণতা ও হীনমন্যতা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসউদ। তিনি বলেন, দেশের এই কৃতিসন্তানদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের অবমূল্যায়নের চিত্র দেখেছেন।
স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী হাফেজ ও কারিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সম্মাননা দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসউদ।