আইফোনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ফিচারের সক্ষমতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের অভিযোগে দায়ের করা ক্লাস অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তিতে ২৫ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে অ্যাপল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা মামলাটি নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে অ্যাপল নতুন এআই-চালিত সিরির বিভিন্ন সক্ষমতার কথা প্রচার করেছিল। এর মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য বুঝতে পারা, আইফোনের পর্দায় থাকা বিষয় শনাক্ত করা এবং বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে আরও গভীরভাবে কাজ করার মতো সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আইফোন ১৬ বাজারে আসার সময় এসব ফিচার প্রত্যাশা অনুযায়ী পাওয়া যায়নি। অ্যাপল অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোনো ধরনের ভুল স্বীকার না করেই প্রতিষ্ঠানটি মামলা নিষ্পত্তিতে সম্মতি জানিয়েছে।
কারা ক্ষতিপূরণ পাবেন
যোগ্য গ্রাহকেরা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজন্য ‘Smartphone AI Settlement’ ওয়েবসাইটে গিয়ে দাবি দাখিল করতে হবে। আবেদনকারীদের যোগাযোগের তথ্যের পাশাপাশি যোগ্য আইফোন কেনা বা মালিকানার প্রমাণ দিতে হবে। প্রয়োজনে ফোনের সিরিয়াল নম্বরও চাওয়া হতে পারে।
২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কেনা নির্দিষ্ট আইফোনের মূল ক্রেতারা এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়বেন। যোগ্য মডেলগুলোর তালিকায় রয়েছে-আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৬, আইফোন ১৬ই, আইফোন ১৬ প্লাস, আইফোন ১৬ প্রো এবং আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স। তবে কোনো আইফোন পুনর্বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কেনা হয়ে থাকলে সেটি এই নিষ্পত্তির আওতায় পড়বে না।
যোগ্য দাবি দাখিলকারীরা প্রাথমিকভাবে প্রতি ডিভাইসের জন্য ২৫ ডলার পাওয়ার কথা। তবে মোট বৈধ দাবির সংখ্যা এবং অন্যান্য খরচের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ কমতে বা বাড়তে পারে। সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
চূড়ান্ত অনুমোদন ফেব্রুয়ারিতে
এই নিষ্পত্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই শুনানিতে আদালত নিষ্পত্তির প্রস্তাবটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পর্যাপ্ত কি না, তা বিবেচনা করবে। আদালতের অনুমোদন এবং সম্ভাব্য আপিল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হবে।
জ/উ