গুয়াংজো-ফ্রাঙ্কফুর্ট-সাও পাওলোতে কনস্যুলেট খুলছে বাংলাদেশ

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-09-21T15:33:32+06:00
2026-09-21T15:33:32+06:00
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
গুয়াংজো-ফ্রাঙ্কফুর্ট-সাও পাওলোতে কনস্যুলেট খুলছে বাংলাদেশ
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ সরকার চীনের গুয়াংজো, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট ও ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে নতুন তিনটি কনস্যুলেট জেনারেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি ও সংগঠন শাখার এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

তিনটি কনস্যুলেট স্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রয়োজনীয় নতুন পদ, যানবাহন ও অন্যান্য অফিস সরঞ্জাম সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চিঠির একটি কপি দেখেছে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, চীনের গুয়াংজো, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট ও ব্রাজিলের সাও পাওলো-তিনটি শহরই বাংলাদেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার স্বার্থের দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যথাযথ প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায় তিন শহরে নতুন কনস্যুলেট জেনারেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বিবেচনায়
অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিন শহরের মধ্যে গুয়াংজোতে কনস্যুলেট জেনারেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের চীনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বিস্তারের দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

গুয়াংজো দক্ষিণ চীনের প্রধান বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর একটি। এ অঞ্চলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠিতে বলেছে, বেইজিং ও কুনমিংয়ে বাংলাদেশের মিশন রয়েছে। তবে গুয়াংজোর দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এ দুই মিশন থেকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে গুয়াংজোর কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।

ফ্রাঙ্কফুর্ট: ইউরোপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ
অন্যদিকে, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ইউরোপকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য।

২০২৪ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ বিলিয়ন ইউরো। একই সময়ে জলবায়ু, জ্বালানি, সুশাসন, অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থাও জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এ কারণে জার্মানির বার্লিনে একটি মিশন থাকলেও আরেকটি কনস্যুলেট খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট স্থাপন ইউরোপের ব্যবসা ও বিনিয়োগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে ইউরোপে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি, বিনিয়োগ, শ্রম ও অভিবাসন এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবার বিষয়গুলোও এর সঙ্গে যুক্ত।

সাও পাওলো: লাতিন আমেরিকায় কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাও পাওলোতে কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিসর লাতিন আমেরিকায় আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগের অংশ। ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় অর্থনীতিগুলোর একটি এবং ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ব্রাজিলের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে।

গত মে মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ব্রাজিল। একই সঙ্গে ব্রিকসে বাংলাদেশের আগ্রহের প্রতিও দেশটি সমর্থন জানিয়েছে। দুই দেশ সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।

সাও পাওলো ব্রাজিলের প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে কনস্যুলেট চালুর মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং ব্রাজিলের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। একই সঙ্গে ব্রিকস ও গ্লোবাল সাউথের বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রও তৈরি হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, তিনটি কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এশিয়ায় চীন, ইউরোপে জার্মানি এবং লাতিন আমেরিকায় ব্রাজিল-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়ানোর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

জ/উ





Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]