বাংলাদেশের ট্রাংক হাইওয়ে পরিকল্পনা করছে চীন

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানকে। এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক ও বড় নদীর ওপর সেতুকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হবে বাংলাদেশের ট্রাংক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা। এ কারিগরি সহায়তায় ব্যয় হবে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। পুরো অর্থই অনুদান হিসেবে দেবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা তৈরিতে চীনের ২০ জন পরামর্শক নয় মাস কাজ করবেন।

2026-09-20T21:00:23+06:00
2026-09-20T21:00:23+06:00
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
বাংলাদেশের ট্রাংক হাইওয়ে পরিকল্পনা করছে চীন
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানকে। এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক ও বড় নদীর ওপর সেতুকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হবে বাংলাদেশের ট্রাংক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা। এ কারিগরি সহায়তায় ব্যয় হবে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। পুরো অর্থই অনুদান হিসেবে দেবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা তৈরিতে চীনের ২০ জন পরামর্শক নয় মাস কাজ করবেন।

তবে নতুন এই উদ্যোগের মধ্যেই উঠেছে বড় প্রশ্ন। কারণ, দেশের জন্য একটি সমন্বিত হাইওয়ে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ ইতোমধ্যে অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। সেই পরিকল্পনা এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পেলেও এর ওপর ভিত্তি করেই নতুন ট্রাংক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে দুই পরিকল্পনার কাজের মধ্যে দ্বৈততা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রস্তাবিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে গত ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে আগামী ২০২৭ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রকল্পের পুরো ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বৈদেশিক অনুদান হিসেবে দেবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্র, বড় শহর, শিল্পাঞ্চল ও বন্দরগুলোকে যুক্ত করে একটি ট্রাংক মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কৌশল নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বড় নদী পারাপারের সেতুগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করা হবে। কোন সড়ক ও সেতু আগে নির্মাণ করা প্রয়োজন, কোনটি পরে করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে কীভাবে এসব অবকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে, তারও একটি পরিকল্পনা থাকবে।

এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান মহাসড়কের নকশা ও মানচিত্র, সম্ভাব্য বড় নদী পারাপারের সেতুর তালিকা ও কারিগরি বিবরণ এবং পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনাও তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের জরিপ, যানবাহন চলাচলের তথ্য সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রস্তাবিত সেতুগুলোর বাস্তবায়ন ব্যয়সহ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।

চীন সরকার এ কাজের জন্য হেনান কমিউনিকেশনস প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউট কোম্পানি লিমিটেডকে পরামর্শক হিসেবে মনোনীত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০ জন পরামর্শক নয় মাস কাজ করবেন। তারা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহায়তায় জরিপ, যানবাহনের তথ্য সংগ্রহ এবং ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা ব্যবহার করে পরিকল্পনার বিভিন্ন মানচিত্র তৈরি করবেন। প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হিসেবে ১৮০ জন-মাস পরামর্শক সেবার জন্য ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের নথিতে দেশের বর্তমান সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের কোথাও তীব্র যানজট রয়েছে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় সড়ক অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত এক্সপ্রেসওয়ে ও বড় নদীর ওপর প্রয়োজনীয় সেতু না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সারা দেশের মহাসড়কের চাহিদা নিয়ে সমন্বিত তথ্যভান্ডার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে প্রকল্প নির্বাচন এবং অবকাঠামোর মানেও অসামঞ্জস্য রয়েছে।

নতুন পরিকল্পনাটিতে অবশ্য বিদ্যমান হাইওয়ে মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান হাইওয়ে মাস্টারপ্ল্যানটি মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা এবং কৌশলগত সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রণীত। এর চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে। নতুন ট্রাংক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাটি ওই মাস্টারপ্ল্যানের মূল ধারণা ও মডেলিং কাঠামোর ভিত্তিতে তৈরি হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বহুমুখী পরিবহনব্যবস্থার সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রকল্পের নথিতেও বলা হয়েছে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আগের উদ্যোগে তৈরি সমন্বিত সড়ক মহাপরিকল্পনাটি অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি। বিদ্যমান পরিকল্পনাটি মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদার ভিত্তিতে সড়ক উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ করেছে। নতুন পরিকল্পনায় সেই কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ, আন্ত-সীমান্ত সংযোগ, বহুমুখী পরিবহন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এ কারণেই নতুন প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কমিশনের কার্যপত্রে সরাসরি বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় বিদ্যমান মাস্টারপ্ল্যান ও খসড়া মাস্টারপ্ল্যানের সঙ্গে প্রস্তাবিত কাজের দ্বৈততা হবে কি না, তা সভায় আলোচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা, পরামর্শক খাতের বিস্তারিত ব্যয় এবং চীনের অনুদানের সম্মতি ও অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে।

২০২৫ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ‘চীনের সহায়তায় বাংলাদেশ মহাসড়ক নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের জন্য চুক্তি সই হয়। পরে পরিকল্পনায় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক ও বড় নদী পারাপারের সেতুকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হয়। এই চুক্তির ভিত্তিতেই কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো ভ্রমণের সময় ও যানজট কমানো, মহাসড়ক নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং সীমিত সম্পদের মধ্যে কোন সড়ক সম্প্রসারণ বা নতুন সড়ক নির্মাণ আগে প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে অগ্রাধিকার পাওয়া ট্রাংক করিডরগুলোর জন্য বিনিয়োগের পথনকশা তৈরি করা হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়ও বিবেচনায় থাকবে।

অর্থাৎ, চীনের অনুদানে প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা দেশের মহাসড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন কৌশল নির্ধারণের উদ্যোগ। তবে বিদ্যমান হাইওয়ে মাস্টারপ্ল্যান এখনো চূড়ান্ত ও অনুমোদিত না হওয়ায় নতুন পরিকল্পনার সঙ্গে আগের পরিকল্পনার সমন্বয় কীভাবে হবে, কাজের পুনরাবৃত্তি হবে কি না এবং দুটি পরিকল্পনা থেকে কোন কাঠামো শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের ভিত্তি হবে এসব বিষয়ই এখন প্রকল্প অনুমোদনের আগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘চীনের অনুদানে প্রস্তাবিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের জন্য নতুন একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা পরামর্শক এই কাজ করলেও সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এটি পর্যবেক্ষণ করবে। তাদের এক্সপার্ট ও আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়েই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।’


জ/রা




  বিষয়:   চীন  বাংলাদেশ  ট্রাংক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক 



Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]