রাজধানীতে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আজ রোববারের সব তাত্ত্বিক ক্লাস স্থগিত করেছে নটর ডেম কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার ড. হেমন্ত পিউস রোজারিও স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতি, বিশেষ করে সড়ক ও কলেজ প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতার কারণে আজ রোববার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষ ও ডিগ্রির সব তাত্ত্বিক ক্লাস বন্ধ থাকবে।
এদিকে গতকাল শনিবার দিবাগত রাত থেকে রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। কখনো হালকা, আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টির কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমেছে। এতে রোববার সকাল থেকে কর্মস্থল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
পুরানা পল্টন, খিলগাঁও কমিউনিটি সেন্টারের সামনে, মালিবাগ রেলগেট বাজার, মৌচাক মোড়, মগবাজার সেঞ্চুরি মোড়, দক্ষিণ মণিপুর মোল্লাপাড়া এবং পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া বর্ডার বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। কোনো কোনো সড়কে হাঁটুসমান পানি জমেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার সকাল থেকে ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রোববার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রোববারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সারা দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে।
এদিকে উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এটি গভীর নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্ভাব্য এই সিস্টেমটির গতিপথ ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে হতে পারে।
জ/উ