শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, তোমরা কি করতে চাও, তোমাদের এক্ষুনি নির্ধারণ করতে হবে। তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ কিভাবে গড়ে উঠবে, সেটাও তোমাদের ঠিক করতে হবে। আজ বুধবার বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের আয়োজনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার প্রিয় নবীনরা, তোমরা সকলে স্বাধীন। বাবা-মা কেউ কাছে নেই। তোমরা তোমাদের মতো পড়াশোনা করছো, নিজেদের মতো বেরিয়ে পড়েছো। তোমরা কতটুকু স্বাধীন, সেটা তোমাদের হিসাব করতে হবে। তোমাদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়। আমরা ঠিক করে দেবো না তোমাদের ভবিষ্যৎ।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। এআই, রোবটিক্স ও ন্যানো টেকনোলজির মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ক্লাসের লেকচারগুলো শুধু আয়ত্ত করলেই হবে না, সেগুলো আরও অনুশীলন করতে হবে। যার মেধা আছে, তার কোনো ভিসা লাগে না।
কারিগরি শিক্ষার প্রসঙ্গে টেনে মন্ত্রী বলেন, চীন সফরে গিয়ে দেশটির কারিগরি শিক্ষার অগ্রগতি দেখেছি। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায়ও কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি চীনা, জাপানি ও কোরিয়ান ভাষা শেখার মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথাও বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজকে নবীনবরণ নয়, তোমার সারাজীবন কিভাবে বরণ করবে, তোমার সময়। তোমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন থেকেই নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে।
শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জিডিপির ৫ শতাংশ প্রয়োজনে বরাদ্দ দেবো। শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক ও খাবারসহ বিভিন্ন সহায়তা এবং বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বাড়ানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, আমি নিজ উদ্যোগে এটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবো।
ছাত্র-রাজনীতি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ছাত্রদল করেই আজকের এ জায়গায় এসে সকলের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। নবীন শিক্ষার্থীদের সংগঠনের কার্যক্রম ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আগে ফ্যাসিস্ট থাকলে কি এতো সুন্দর আয়োজন করা যেতো। আজকের ছাত্রদল হলো তোমাদের সহযোগিতা করার জন্য। আমাদের ছাত্রী বোনেরা আজ নিরাপদ বোধ করছে- এটিই হচ্ছে জিয়ার আদর্শ।
শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাফফর হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, জবি শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ২ হাজার ১০০ জন নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের সবাইকে উপাহার হিসেবে একটি ব্যাগ, কলম, চাবির রিং, বই, শুভেচ্ছা স্মারক, ক্রেস্ট মগ দেয়া হয়। সন্ধ্যায় নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে মঞ্চ মাতাবেন জনপ্রিয় শিল্পী ও ব্যান্ডদল 'আর্টসেল, 'শিরোনামহীন, 'জেফার', মৌসুমিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পীরা।
জ/উ